মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:২৯ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৮ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য নির্মাণাধীন দেশের প্রথম ও একমাত্র বিশেষায়িত মেডিকেল রিসোর্ট ‘অবসর আমার আনন্দ ভুবন’ নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে আছে কয়েক বছর। ১০ থেকে ১২ শতাংশ কাজ হওয়ার পর এ প্রকল্প অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রাইভেট পার্টনারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে রিসোর্টটির যে ডিজাইন করা হয় তাতে রয়েছে ১৬টি ভবন। ১০টি ডুপ্লেক্স ভবনে ১০০টি নিরাপদ আবাসন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, পুরুষ ও নারী নিবাসীদের জন্য দুটি হোস্টেল, গেস্টরুম, রেস্টুরেন্ট, চিকিৎসাকর্মীদের জন্য আলাদা আবাসিক ভবন, পাঠাগার, ওয়াকওয়ে, বাগান, ফোয়ারা, খোলা মাঠ ইত্যাদি। কিন্তু ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হলে প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পুনরায় কাজ শুরু হলেও আবার বন্ধ হয়ে যায়।
প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নের চুক্তি করা হয়েছিল। এখানে সরকার দিচ্ছে জমি ও অন্যান্য সুবিধা, আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দিচ্ছে নির্মাণব্যয়। প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক মো. হানিফুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের বনিবনা হচ্ছে না। ফান্ড পাওয়া যাচ্ছে না। ফান্ড না পেলে আমরা কাজ করব কীভাবে?’
বিষয়টা আর একটু পরিষ্কার হওয়া গেল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের মিডিয়া কনসালট্যান্ট মো. পলাশ মিয়ার বক্তব্যে। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রতিটি প্রাইভেট পার্টনার প্রকল্পের ফাইন্যান্সিং একটা পার্ট। মেডিকেল রিসোর্টের কাজে আমাদের প্রাইভেট পার্টনার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়তো ফাইন্যান্স অ্যারেঞ্জ করতে পারছে না। এ কারণে কাজটি স্থগিত হয়ে আছে। আমাদের কোনো প্রকল্পে সরকার টাকা দেয় না। সরকার দেয় জমি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। প্রাইভেট পার্টনার টাকার ব্যবস্থা করে।’
করোনার পর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও সমস্যার কারণ বলে জানা গেছে। মিডিয়া কনসালট্যান্ট মো. পলাশ মিয়া বলেন, ‘মালামালের দাম বেড়ে গেলেও বাজেট বাড়ানোর সুযোগ নেই।’ তাহলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী, এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ওরা (ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ফান্ড পেলেই কাজ শুরু করতে পারবে। আমাদের আরও কিছু প্রকল্পের কাজ বন্ধ আছে।’ এসব আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অনুন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কোথাও একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম করার উদ্যোগ নেন। যেখানে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা সামান্য খরচে থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা সুবিধা, বিনোদনসহ বিভিন্ন সুযোগ পাবেন। ২০০১ সালের প্রথম দিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে ফিনলে টি কোম্পানি থেকে ৫.৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সে সময় ১৬ কোটি টাকায় গণপূর্ত বিভাগের অধীনে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাউন্ডারি দেয়াল ও প্রকল্প স্থানে মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি থমকে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনা পুনরায় এটি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১৭ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পের কার্যাদেশ লাভ করে রাজধানীর ‘চারুতা প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।