আব্দুল্লাহ আল নোমান, আশুলিয়া (ঢাকা)
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:২৯ পিএম
আশুলিয়ায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকরা। প্রবা ফটো
ঢাকার অদূরে সাভার ও আশুলিয়ায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকরা। সারা বছর গ্যাস সংকট থাকলেও গত ১৪ দিনে তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিল্প কারখানার উৎপাদন ও ব্যক্তিজীবনে। শুধু তাই নয়, গ্যাস না পেয়ে পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র গ্যাস-সংকটে শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকরা তীব্র ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। আবাসিক গ্রাহকদের যেমন রান্নার জন্য খুঁজতে হচ্ছে ভিন্ন পন্থা, তেমনি চড়া দামে বিকল্প জ্বালানি কিনে উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার মালিকরা। এর বাইরে পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও মিলছে না গ্যাস।
এ ব্যাপারে আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে অনেক মানুষকে রান্না না করে বিভিন্ন হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নার জন্য বিকল্প হিসেবে রাইসকুকার, ইন্ডাকশন ও স্টোভ ব্যবহার করছেন।’
সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, ‘দিনের বেলায় মিলছে না রান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস। রাতের দিকে কিছুটা এলেও তার স্থায়িত্ব থাকে অল্প সময়। এতে করে পুরো রান্নার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।’
এদিকে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে দেড় হাজারের মতো ছোটবড় শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানার জেনারেটর বা বয়লার চালানোর জন্য ১৫ পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চিতে গ্যাসের চাপের ইউনিট) চাপের গ্যাস প্রয়োজন কিন্তু বর্তমানে তা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। কারখানা মালিকরা বলছেন, এ চাপ সংকটের কারণে বিকল্প পদ্ধতিতে চলছে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম। এতে তাদের পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাভারের উলাইল এলাকায় অবস্থিত আল মুসলিম গ্রুপের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ‘মাসখানেক ধরে আমাদের এই গ্যাস সংকট পোহাতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের কারখানায় উৎপাদন চালিয়ে যেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির মাধ্যমে আমাদেরকে উৎপাদন চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের প্রতি মাসে যেখানে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকার ইউটিলিটি খরচ হতো সেটি এখন প্রায় ১০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অতিরিক্ত এই তিন কোটি টাকা ব্যয়বৃদ্ধির কারণে আমাদের লাভের পরিমাণও কমে এসেছে অনেকটাই।’
এ ছাড়াও সিএনজি স্টেশনগুলোতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। দিনের বেলায় লাইনে গ্যাসের চাপ (প্রেশার) না থাকায় সারাদিনের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাত ১১টার পর থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন চালকরা।
মো. এরশাদুল নামে এক প্রাইভেটকার চালক জানান, সাভারের শিমুলতলা থেকে গাড়ি নিয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হই। পথিমধ্যে সাভার রেডিও কলোনি থেকে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা পর্যন্ত চারটি সিএনজি পাম্পের একটিতেও গ্যাস পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে অকটেন ভরে গন্তব্যে পৌঁছেছি।
আশুলিয়ার জিরানী সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান বলেন, সারাদিনই পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না আমরা। গ্যাসের মূল লাইনে চাপ স্বাভাবিকভাবে ১৮ থেকে ২০ পিএসআইজি পাই। কিন্তু এখন আমরা সেখানে ৩ থেকে ৫ পিএসআইজি পাচ্ছি। তবে রাতের বেলায় ১২ থেকে ১৩ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ খাদেম উদ্দিন বলেন, ‘শীতের এই সময় গ্যাসের চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। চাহিদা অনুপাতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দ্রুতই এ সংকট নিরসনে আমরা কাজ করছি।’