বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২৮ পিএম
ইলিশের জালে ধরা পড়া বড় বড় পাঙ্গাশ। ছবি : প্রবা
দীর্ঘ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদী ও সমুদ্রে ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। প্রথম দুই দিন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে তাদের জালে। তবে এর পর থেকে ইলিশের বদলে জালে ধরা দিচ্ছে পাঙ্গাশ মাছ। বাজারও সয়লাব পাঙ্গাশে। কিন্তু দাম নাগালে নেই সাধারণের। বড় এসব পাঙ্গাশের দাম চড়া।
বুধবার (২ নভেম্বর) সকালে বরগুনা পৌর মাছবাজারে গেলে অসংখ্য বড় বড় পাঙ্গাশ দেখা যায়।
জেলেরা জানান, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও সমুদ্রে পাঙ্গাশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বেড়েছে। ইলিশের জালে প্রথম দুই দিন স্থানীয় নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে। হঠাৎ ইলিশের বদলে এখন বেশি ধরা পড়ছে পাঙ্গাশ। সমুদ্রেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।
এ বিষয়ে স্থানীয় আড়তদার খলিল মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুমে মাছ সংরক্ষণের জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্র ও নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা। তবে জেলেরা জানিয়েছেন তাদের জালে বড় সাইজের পাঙ্গাশ ধরা পড়লেও হঠাৎ করে কম ধরা পড়ছে ইলিশ।’
ইলিশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশ। বিক্রেতারা জানান, বড় সাইজের পাঙ্গাশ ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এখন ইলিশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষ কিনছে পাঙ্গাশও।
মাছ ব্যবসায়ী ছগির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইলিশ কম থাকায় পাঙ্গাশের বিক্রি বেড়েছে। দামও মিলছে ভালো। নদীর পাঙ্গাশের চাহিদা সব সময়ই থাকে। ভালো জিনিস খেতে হলে দাম তো একটু বেশি দিতেই হবে।’
খুচরা বিক্রেতা কামাল বলেন, ‘পাঙ্গাশের স্বাদ অন্যান্য মাছের চেয়ে ভালো। কোনো গন্ধ নাই, তেল অনেক।’
ইলিশ কিনতে এসে বাধ্য হয়ে পাঙ্গাশ ক্রেতা আকবর হোসেন বলেন, ‘ইলিশ পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে পাঙ্গাশ কিনেছি। কিন্তু আকারে বড় হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ৭৫০ টাকা কেজি দরে পাঙ্গাশ বিক্রি করছেন।’
চড়া দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে খোকন নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, ‘যদি ৭৫০ টাকা দিয়ে পাঙ্গাশই কিনতে হয় তাহলে ইলিশ কিনব কত টাকা দিয়ে।’
পাঙ্গাশ বেশি ধরা পড়ার কারণ হিসেবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইলিশ কমেনি। মূলত আগের চেয়ে পাঙ্গাশ বেড়েছে। কয়েক বছর ধরে পাঙ্গাশের পোনা নিধন বন্ধে জোর তৎপরতার সুফল এটি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাঙ্গাশ ও ইলিশের বংশবিস্তারের সময় প্রায় একই। এভাবে পোনা নিধনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে ভবিষ্যতে পাঙ্গাশ উৎপাদন আরও বাড়বে।’