গ্যাস সংকট
নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:৩১ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেও গ্যাসের সমস্যা দূর করতে পারছি না। ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, ফ্যাক্টরিগুলো একেবারে অচল হয়ে গেছে। প্রায় তিন লাখ শ্রমিক বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। মালগুলো নির্দিষ্ট সময়ে তৈরি না হওয়ার জন্য এক্সপোর্ট করা যায়নি। জানুয়ারি মাসের বেতন দেওয়ার সময় চলে আসছে। কিন্তু শ্রমিকদের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বেতন এখনও পরিশোধ করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করেছি ডিসেম্বর মাসের বেতন তাদের দিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু নভেম্বরের বেতন নিয়ে অনিশ্চিয়তা রয়েছে।’
শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে বিকেএমইএ পরিচালনা পর্ষদের (২০২৩-২০২৫) চতুর্থ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় টানা তৃতীয়বারের মতো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বিকেএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমাদের ওপর প্রেসার আসছে বেতন বৃদ্ধি করে বেতন দেওয়ার জন্য। এই বেতনটা আমরা কোথা থেকে দিব? আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বেতনটা দিয়ে দেওয়া। আমরা রাজি হয়েছিলাম। গ্যাসের দাম বাড়লে কোনো আপত্তি থাকবে না। যদি নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস পাই তবে সমস্যা থাকবে না।’
‘আমরা বিদ্যুৎটা যদিও একটু ঠিক পাচ্ছি কিন্তু গ্যাসের ব্যাপারে আমরা একেবারে হতাশ হয়ে গেছি। আমরা বারবার যোগাযোগ করার পর নির্বাচনের আগে ১০-১২দিন গ্যাস থাকলেও নির্বাচনের পর আবার গ্যাস নাই হয়ে গেল। এটা যে কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল এটা যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারাই বুঝতে পারছে। সবগুলো ফ্যাক্টরিতে সেই ব্যবস্থা নাই যে সিলিন্ডার গ্যাস এনে চালাব। সবার পক্ষে তা সম্ভবও না, হয়তো কয়েকজনের পক্ষে সম্ভব,’ যোগ করেন তিনি।
এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘আমরা যারা নিট ব্যবসা করি তাদের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি এই তিনটা জিনিস খুব প্রয়োজন। শ্রমিকদের জন্য আমরা টিকে আছি। শ্রমিকের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক থাকলেও একটা শ্রমিকের পক্ষে সম্ভব না বেতন ছাড়া কাজ করা। এই সমস্যা থেকে উদ্ধার পেতে সম্মিলিতভাবে সরকারের কাছে আবেদন জানাই।’
সেলিম ওসমান বলেন, ‘নিট শিল্প উন্নতি করার জন্য, ধরে রাখার জন্য এটাই পারফেক্ট টাইম। আমাদের করোনার সময় যে অবস্থা হয়েছিল তার থেকে ২ হাজার গুণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমরা কোনোরকমের হৈচৈয়ে যাব না। আমরা শন্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চাই, শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব। সরকারের কাছে আবেদন, গ্যাস না পেলে ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না। সেক্ষেত্রে কিন্তু আমরা দায়ী হব না। এতে করে প্রায় তিন লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। যার জন্য আমাদেরকে দায়ী করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতি মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি করছি আড়াই হাজার কোটি টাকা। হিসেব করলে বাংলাদেশ সব থেকে বেশি ফরেন কারেন্সি আয় করে নিটওয়্যার থেকেই। আর এই কাজে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ জড়িত। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চিন্তা করলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই নিটওয়্যারে।’