টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৫০ পিএম
টাঙ্গাইলে লীলাকীর্তন চলাকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারধর, বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের পায়লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জানুয়ারি) বিকালে পৌর শহরের শ্রী শ্রী বড় কালীবাড়ীর সামনে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সমরেশ পাল, জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি পল্টন দত্ত বিপ্লব, পয়লা গ্রামের মন্দির কমিটির সভাপতি দুলাল রাজবংশী, সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি দুলাল রাজবংশী বলেন, ‘শুক্রবার বিকালে লীলাকীর্তন চলাকালে হাবিব, রাজু ও পারভেজসহ ৭ যুবক প্রসাদ খেতে আসেন। তারা বারবার প্রসাদের পায়েশ চান। কিন্তু ২-৩ বার দিলেও আরও খেতে চান। পরে প্রসাদ বিতরণকারীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় নারী-পুরুষ-শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লীলাকীর্তন অনুষ্ঠান। আমরা থানায় মামলা করেছি। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘পায়েশ খাওয়া নিয়ে স্থানীয় কিশোরদের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ৫ জন আহত হয়েছে। ২০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষ জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’