ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৩:০৮ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৫০ পিএম
ঠাকুরগাঁও সদর থেকেও দেখা মিলছে হিমালয়কন্যা কাঞ্চনজঙ্ঘার। ছবি : প্রবা
ঠাকুরগাঁও থেকেও দেখা মিলছে হিমালয়কন্যা কাঞ্চনজঙ্ঘার। সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের টাঙ্গন ব্রিজ ও সদর ৩ নম্বর আকচা ইউনিয়নে বুড়ির বাঁধ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ভিড় করছেন অনেক মানুষ।
গত সোমবার (৩১ অক্টোবর) ও মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সারাদিনই দেখা গেছে হিমালয়কন্যাকে।
বুড়ির বাঁধ এলাকার আব্দুল জব্বার বলেন, ‘প্রতি বছরই এখান থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে এর আগের বছর কুয়াশার কারণে তেমন দেখা যায়নি। এইবার ঠাকুরগাঁওয়ে হালকা শীত পড়ছে তাই সারাদিন দেখা যাচ্ছে পাহাড়টি।’
শহরের কলেজপাড়া থেকে বিকালে বুড়ির বাঁধে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যান হাবিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর পঞ্চগড় যাই এই মনোরম পর্বতটি দেখতে। গতকালকে শুনলাম টাঙ্গন ব্রিজ ও বুড়ির বাঁধ থেকে দেখা যাচ্ছে। আমার বাড়ি থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে এই বুড়ির বাঁধ, তাই এখানে দেখতে চলে এসেছি। মনে হয় পঞ্চগড় থেকে দেখছি। অপরূপ সৌন্দর্য, মুগ্ধকর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ভালোই লাগছে।’
২০১৩ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বুড়ির বাঁধ এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার ছবি প্রথম ক্যামেরাবন্দি করেন ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী। তার আগে শুধু পঞ্চগড় থেকে আবহাওয়ার বিশেষ একটা সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যেত।
ফটোগ্রাফার রেজাউল হাফিজ রাহী বলেন, ‘২০১৩ সালে বুড়ির বাঁধ এলাকায় পাখির ছবি তুলতে গিয়ে প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘার সর্বোচ্চ চূড়ার ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করি। এরপর তা ফেসবুকে পোস্ট করি। তারপর থেকেই মানুষ জেনেছে শুধু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে নয়, ঠাকুরগাঁও থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।’
আবহাওয়া ভালো থাকলে ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত এ পর্বতের চূড়া অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ মাস পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে দেখা যায়।
টাঙ্গন ব্রিজ এলাকার হোসেন আলী বলেন, ‘সকাল থেকে রোদ উঠছে, আকাশ পরিষ্কার, তাই সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে এবং বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।’
সবুর আলী নামে আরেকজন বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছর টাঙ্গন ব্রিজ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখছি। এবারও গত ২-৩ দিন ধরে দেখা যাচ্ছে। তবে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে। সকাল ১০টা পর্যন্ত বেশ ভালো দেখা যায়। তারপর আস্তে আস্তে ঝাপসা হতে থাকে। তবে শেষ বিকালে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফের পাহাড়ে, তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমরা অপেক্ষায় থাকি প্রতি বছর এ পাহাড়টা দেখার জন্য। গত বছর শীত বেশি থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া ভালোভাবে দেখা যায়নি। তবে এবার শীত কম থাকায় চূড়াটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। চমৎকার ও অপূর্ব সেই দৃশ্য। নিজের চোখকে বিশ্বাস করা যায় না এতটাই অপূর্ব।’
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের আকাশ পরিষ্কার, রাতে হালকা ঠান্ডা আর দিনের বেলায় গরম। গত কয়েকদিন ধরে ঠাকুরগাঁও সদরের বেশ কয়েক জায়গা থেকে দেখা যাচ্ছে হিমালয়কন্যা কাঞ্চনজঙ্ঘা। নিজেও সেই দৃশ্য উপভোগের চেষ্টা করছি। চমৎকার ও অপূর্ব সেই দৃশ্য।’