খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:১৬ এএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিস। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অতিরিক্ত টাকা ছাড়া মিলছে না জমির রেকর্ড, পরচা, মৌজার নকশাসহ সেটেলমেন্ট অফিসের অন্যান্য সেবা। এমনই অভিযোগ উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। আর এ কাজে পেশকার লেবু মিয়া ও অফিস সহায়ক সুবাশ চন্দ্র রায় জড়িত বলে অভিযোগ। সেবা নিতে এসে হয়রানি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে প্রদর্শিত সিটিজেন চার্টার থেকে জানা যায়, জেলা অফিসের অধীন বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি মালিকগণকে ফিসহ পরচার নকল, খতিয়ান ও নকশা প্রদান এবং ফি ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে খানসামা উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার কার্যালয় ঘুরে দেখা যায় উল্টো চিত্র। সিটিজেন চার্টারের সঙ্গে মিল নেই সেবা প্রদানে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপসংক্রান্ত সেবা ঘুষ ছাড়া মিলছে না। মিলছে না জমির পরচা আর মৌজার নকশাও। সেবা পেতে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাক। দালাল ও টাকার মাধ্যমে সহজেই সেবা পাওয়া যায়। এর বাইরে সেবা নিতে গেলেই হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রতিদিনই ঘটছে এমনটা। তবে কাজ না হওয়ার ভয়ে মুখ খুলছে না অনেকেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাঠ পরচা নিতে গেলে আবেদনে ২০ টাকার কোর্ট ফি এবং ১০০ টাকা অনুলিপি বাবদ ডিসিআরের মাধ্যমে আদায় করে সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু এ অফিসে ৬০০-৭০০ টাকা না দিলে মিলছে না কোন পরচা। উপজেলার আংগারপাড়া মৌজার পরচা নিতে আসা আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘পরচা নিতে গেলে কর্মচারীরা ৫০০ টাকা ছাড়া দেবে না বলে জানায়। সেটাও কয়েক দিন ঘুরে পাইনি। সামনের সপ্তাহে আসতে বলেছে।’
হয়রানির শিকার হোসেনপুর মৌজার সুধীর সেন বলেন, ‘এই অফিসের মাটিতে পা দিলেই টাকা ছাড়া কোনো কথা নেই। সর্বোচ্চ দুর্নীতির জায়গা সেটেলমেন্ট অফিস।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘১০০ টাকার পরচা ৫০০ টাকা ছাড়া মিলছেই না বাহে।’
পেশকার লেবু মিয়া ও অফিস সহায়ক সুবাস চন্দ্র রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের কাজই হচ্ছে পরচা দেওয়া। আমরা তা-ই করি, অতিরিক্ত টাকা নিই না।’
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মির্জা জিকরুল হক বেগ মোবাইল ফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকার নির্ধারিত ফির বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কয়েকটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত আসতে পারছি না। একজন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে পরবর্তীকালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দিনাজপুর জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা শামছুল আজম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নেওয়া হবে।’ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ হাসান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’