× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিম-পরোটা বেচে টিকে থাকার লড়াই ঝর্ণার

নড়াইল সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:১৩ পিএম

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪১ পিএম

রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকানে ডিম, শিঙাড়া ও পরোটা বিক্রি করছেন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ঝর্ণা বিশ্বাস। প্রবা ফটো

রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকানে ডিম, শিঙাড়া ও পরোটা বিক্রি করছেন শ্রবণ প্রতিবন্ধী ঝর্ণা বিশ্বাস। প্রবা ফটো

নড়াইল সদর উপজেলার মালিয়াট গ্রামের শ্রবণ প্রতিবন্ধী ঝর্ণা বিশ্বাস। বয়স ষাটের একটু বেশি। ভাগ্য বদলের চেষ্টায় জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় ধরে রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি দোকানে ডিম, শিঙাড়া ও পরোটা বিক্রি করছেন। তবে অনেক চেষ্টায়ও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি তার। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার আশায় যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তা এখন রূপ নিয়েছে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন যুগ আগে শ্রবণ প্রতিবন্ধী ঝর্ণার বিয়ে হয় একই এলাকার হরিচাঁদ বিশ্বাসের সঙ্গে। বিয়ের পর সহায়-সম্বলহীন স্বামীর সঙ্গে থাকতেন মালিয়াট বাজারের একটি ঝুপড়ি ঘরে। সে সময় স্বামীর অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ঘরের সামনে ছোট একটি দোকান দেন ঝর্ণা। সেখানে ডিম, শিঙাড়া, পরোটা বিক্রি শুরু করেন। স্বামীও ক্ষেত-খামারে কাজ করে আয়-রোজগার করতেন তখন। বিয়ের দীর্ঘদিন পার হলেও তাদের কোনো সন্তানাদি না হওয়ায় ঝর্ণার সম্মতিতে স্বামী হরিচান দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই ঘরে এক সন্তানের জন্ম হয়। দুজনের সংসার হয় চারজনের। ঝুপড়ি ঘরে জায়গা না হওয়ায় পাশে সরকারি জমিতে একটি দোচালা ঘর উঠিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। গাদাগাদি করে এখনও সেখানেই বসবাস করছেন তারা। একই সঙ্গে ৩০ বছর ধরে রাস্তার পাশে ডিম, শিঙাড়া বিক্রি করে যাচ্ছেন ঝর্ণা। তবে এসব বিক্রি করে এখন আর তেমন আয় নেই। স্বামীর রোজগারও ভালো না। কোনোমতে চলছে তাদের সংসার। সচ্ছলতা ফেরানোর সংগ্রামে জয়ী না হতে পেরে এখন কেবল বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন ঝর্ণা ও তার পরিবার।

ঝর্ণা বলেন, ‘এখন আর সংসার চলে না। তারপরও বাঁচতে তো হবে। তাই দু-চার টাকা আয়ের আশায় দোকান চালাই। সরকারি একটু সাহায্য-সহযোগিতা পেলে একটু ভালোভাবে বসবাস করতে পারতাম।’ 

হরিচান বিশ্বাস বলেন, ‘স্ত্রীর দোকানের কাজে সব সময় সহযোগিতা করি। তবে এখন দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আর বাঁচা যাচ্ছে না। কোনো রকমে চলছে সংসার। খুব কষ্টে দিন যায়। সরকার মানুষদের ঘরবাড়ি দিচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমাদের উপকার হতো।’

মালিয়াট এলাকার বাসিন্দা শংকর বিশ্বাস ও নিউটন গোস্বামী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝর্ণা বিশ্বাস এখানে দোকানদারি করছেন। এই দোকান থেকে যে আয় হয় তাতে তাদের সংসার চলে না। তাদের কোনো জায়গা-জমি নেই। সরকারি জমিতে থাকেন তারা। তারা যদি একটু সরকারি সাহায্য পান তাহলে ভালো লাগবে।

শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সুরঞ্জন গুপ্ত বলেন, ঝর্ণার জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে ঝর্ণাকে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা