শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:২৪ পিএম
চারদিকে ঢাকঢোল আর সানাইয়ের সুর, উলুধ্বনিও দিচ্ছেন অনেকে, পুরোহিত পাঠ করছেন মন্ত্র। পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে ছাদনাতলা। পাঁচ হাজার অতিথিকে করানো হচ্ছে আপ্যায়ন। রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা, আলপনা, সুসজ্জিত গেট, অতিথি, এলাকাবাসী আর ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসুক মানুষের ভিড়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বট ও পাকুড় গাছের বিয়ে হলো দিনাজপুরে।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রম এই বিয়ের জন্য নিয়োজিত ছিলেন পাঁচজন পুরোহিত। মঙ্গলবার গায়েহলুদের মাধ্যমে শুরু। বুধবার সকাল ৬টায় অধিবাস, সকাল ১০টায় নারায়ণ পূজা, দুপুর দেড়টায় মধ্যাহ্ন প্রসাদ বিতরণ এবং দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিয়ে ও যজ্ঞানুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কবিগান। কবিগান পরিবেশনের জন্য ছিলেন চিরিরবন্দর উপজেলার বাবুল সরকার ও খানসামার চন্দনা রানী সরকার।
অতিথিদের দেওয়া নিমন্ত্রণপত্র থেকে জানা গেছে, বরবেশে পাকুড়গাছ, পিতা দিলীপ ঘোষ, মাতা দিপ্তী ঘোষ, ঠিকানা চকবাজার, দিনাজপুর। আর কনে সেজে কুমারী বটগাছ, পিতা মুন্না সাহা, মাতা পূর্ণিমা সাহা, ঠিকানা দিনাজপুর।
আয়োজক দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রকৃতি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের অমঙ্গল থেকে রক্ষা করার বিশ্বাস থেকে বট-পাকুড়ের বিয়ে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, যেভাবে মানুষের বিয়ে হয় সেভাবে বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় গুরুসংগীত কুমার সাহা বলেন, শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, ধর্মবৃক্ষ বট ও পাকুড়ের বিবাহ দর্শনমাত্রই মঙ্গল। এজন্য তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই বিয়ের অনুষ্ঠানে গায়েহলুদসহ শাস্ত্রমতে সকল আয়োজন করা হয়।
গাছের বিয়ের বিষয়ে দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি চিত্ত ঘোষ বলেন, প্রকৃতি ও ব্যক্তির মঙ্গল কামনায় বট-পাকুড়ের বিয়ে দেওয়া হয়। বাসুনিয়াপট্টি দুর্গা মন্দিরে চকবাজার এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় এমন বিয়ের আয়োজন করেন। বিয়ে ঘিরে আনন্দ-উৎসব হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাকুড় গাছকে মুখোশ, ধুতি, পাঞ্জাবি পরিয়ে বরের বেশ ধারণ করানো হয়। আর পাশের বটগাছটিকে মুখোশ এবং শাড়ি পরিয়ে কনের বেশ ধারণ করানো হয়। বর-কনের জন্য সাজানো হয় বিয়ের আসন। মন্দিরের বিশাল স্থানে বরযাত্রীদের জন্য টানানো হয় বিশাল প্যান্ডেল। বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ খেতে এসেছিলেন কয়েক হাজার অতিথি। সবজি-পোলাও, আলুভাজি, ডাল ও পায়েস খাইয়ে আপ্যায়ন করা হয় তাদের।
বিয়েতে প্রায় ৫ হাজার অতিথিকে আপ্যায়ন করানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রান্নার কাজে নিয়োজিত বাবুর্চিদের প্রধান নারায়ণচন্দ্র অধিকারী। তিনি বলেন, ভোর থেকে ১৪ জন বাবুর্চি ও সহকর্মীরা এই রান্নার কাজ করেন। শহরের খালপাড়া এলাকার গৃহবধূ ললিতা বালা বট-পাকুড় গাছের বিয়ে দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের বিয়েতে দাওয়াত করা হয়েছিল। এ জন্য এসেছি। বিয়ের আয়োজন দেখে আমরা মুগ্ধ।