নাটোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১৩:৪২ পিএম
নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতালে শীতজনিত রোগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। প্রবা ফটো
সারা দেশের ন্যায় নাটোরে কুয়াশার সঙ্গে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। চার দিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। জেলাজুড়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও। ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুসহ বয়স্ক রোগীরা।
নাটোর সদর আধুনিক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ দিন ধরে জেলাজুড়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। ডায়রিয়া, সর্দিজ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অনেকেই। আক্রান্তের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে ৪৫ শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ার কারণে মেঝেতে ম্যাট বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশু ভর্তির সংখ্যা বেশি হলেও সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে গত তিন ধরে ১৫-২০ জনের মতো সর্দি-কাশিসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। গতকাল পর্যন্ত সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ৫ জন।
এটা সদর হাসপাতালের চিত্র। তবে জেলাজুড়ে শীতজনিত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও বেশি বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদ মশিউর রহমান। তিনি বলেন, শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমান তিনগুণ রোগী ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কার্শি-জ্বর এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশু মৃত্যবরণ করেনি। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া একাধিক শিশুর অভিভাবকরা জানান, তীব্র শীতের কারণে শিশুরা বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে। দু-এক দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরে অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ চন্দনা দেবনাথ জানান, গত তিন দিনে ৩০ জন শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। নানা সীমাবদ্ধতা ও রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন আক্রান্তদের সেবা নিশ্চিত করতে।
এ ছাড়া শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তারা দৈনন্দিন কাজ ঠিকমতো করতে পারছেন না। জীবিকা নির্বাহে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে শৈত্যপ্রবাহ।