চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হুজরাপুর পৌর বাজার। প্রবা ফটো
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চড়া হচ্ছে চালের বাজার। ধানের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে গেল চার দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে রমকভেদে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১১ থেকে ১৫ টাকা। হঠাৎ খাদ্য শস্যের এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বাজার তদারকির মাধ্যমে চালের পাইকারদের সর্তক করা হচ্ছে বলে জানান জেলার বাজার কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) শহরের হুজরাপুর পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত চারদিনের ব্যবধানে চিকন চাউলের ( ব্রি-২৮ জাত) দাম কেজিতে ১১ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়। সরু চাউল (জিরা, মিনিকেট) কেজি প্রতি ১৩ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। বাশমতি চালের দামও বেড়েছে কেজিতে দুই টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে মোটা চাউল (লাল স্বর্ণা) চাউলের বাজার।
পাইকারি চাল বিক্রিতা বাবলু জানান, গত শুক্রবার মোটা চাউল ৪৪ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে চিকন চাউল গত শুক্রবারে বিক্রি হয়েছিল ৪৯ থেকে ৫১ টাকায় এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকা। সরু চাউল সেদিন বিক্রি হয়েছিল ৫২ থেকে ৫৫টাকা কেজিতে এখন সেটা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। বাজারে বাসমতি দুই টাকা বেড়ে ৮২টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধশতাধিক অটো রাইস মিল রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ ট্রাকের বেশি চাল পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে। প্রতি ট্রাকে প্রায় ১৮ থেকৈ ২৫ টন চাল যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দাম বাড়িয়ে এই চাল থেকে কোটি কোটি টাকার বাড়তি মুনাফা তুলে নিচ্ছে মিলমালিকদের সিন্ডিকেট।
তবে মিল মালিকদের দাবি, দিনদিন ধানের দাম বাড়ার কারণে চাল বেশি দামে বিক্রি করেত হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে জিরা ধানের দাম বিক্রি হয়েছিল সাড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা মণ দরে। এখন বাজারে ১৭০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। সদ্য ওঠা আমন ধান সপ্তাহ তিনেক আগে বিক্রি হয়েছিল এগারশ থেকে সাড়ে এগারশ টাকায়। এখন সেই ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে সাড়ে ১৩০০ টাকায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অটো রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ জানান, ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে চালের দাম বেড়েছে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়েছি অনেক পাইকার চাল মজুত করে রেখেছে। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেসব চালের বস্তাগুলো নায্যমূল্যে বাজারে বিক্রি করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ নায্যমূল্যে চাল কিনে খেতে পারে।