শফিকুল ভুঁইয়া, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:১৩ এএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৫২ এএম
মাটি ফেলে কালভার্টের মুখ বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। সোমবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চাপারকোনা উত্তরপাড়া এলাকায়। প্রবা ফটো
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই কৃষিজমিতে পুকুর খনন করে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সেখানকার প্রায় ৩০০ হেক্টর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সেচ মৌসুমে পানির সংকটে ফসলের ক্ষতি আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা উত্তরপাড়া এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা জানান, স্থানীয় নূরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি পুকুর খনন করে মাটি রাখায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত একটি বক্স কালভার্টের মুখ প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে স্থায়ীভাবে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কালভার্টের আশপাশে থাকা দুই ফসলি ৩০০ হেক্টর জমির আবাদ।
কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, এই বিলে আমার প্রায় এক বিঘা জমি আছে। বর্ষাকালে এই জমিগুলোর সব পানি এই কালভার্ট দিয়ে নদীতে চলে যায় এবং বন্যার পানি এসেও জমিতে পলিমাটি পড়ে। এতে আমাদের ফসলি জমিগুলো আরও উর্বর হয় এবং ফসল ভালো হয়। যদি সে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পুকুর খনন করা হয় তাহলে আমরা আগামী মৌসুমে বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতার কারণে আর চাষাবাদ করতে পারব না। এতে আমরা একটি ফসল থেকে বঞ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হব।
কৃষক শাজাহান মিয়া বলেন, নূরুলকে আমরা বেশ কয়েকবার বারণ করেছি এখানে পুকুর না করতে কিন্তু ও মানছে না। এ বিলের অধিকাংশ জমি দুই ফসলি। আমরা বোরো, আমন দুই মৌসুমে ধান চাষ করি। বিঘাপ্রতি বেশ ভালো ফলন হয়। বর্ষা মৌসুমে ঝিনাই নদীর খুবই কাছে হওয়ার কারণে প্রতিবছর বেশ ভালো পলিমাটি আসে। পলি জমাতে ফলন বেশ ভালো হয়।
মুসতাস নামে আরেকজন জানান, দুই মৌসুমে এখানে ধান চাষ হয়। বোরো মৌসুমে সেচ পাম্প দিয়ে পানি দিতে হয় না। এতে আমাদের খরচ বেঁচে যায় এবং খুবই ভালো ফলন হয়। কিন্তু কালভার্টের মুখ আটকে দেওয়া হলে এখানে পানি আসবে না। যার কারণে চাষাবাদ কঠিন হয়ে যাবে এবং তা অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।
ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন শিমুল বলেন, কৃষকরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। আমি নূরুল ইসলামকে নিষেধ করেছি কিন্তু সে মানছে না।
অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম বলেন, কালভার্টের সঙ্গের জমিটি আমাদের। জমিতে ফসলাদি ঠিকমতো হয় না। তাই আমি পুকুর করছি মাছ চাষ করার জন্য। আমি কালভার্টের মুখ বন্ধ করছি না। এক পাশ দিয়ে খোলা রাখব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিলে পানিনিষ্কাশন রোধে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে চাষাবাদে ব্যাঘাত হবে এবং কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি যিনি করছেন তিনি ভালো কাজ করেননি। আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে এর যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা অপরাধ। এতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়। যদি কেউ জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে চায় তাহলে তাকে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে সরকারি আইন উপেক্ষা করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে ভূমি নীতিমালায়। এ বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কালভার্ট কেউ বন্ধ করে দিতে পারে না। আর ওই কালভার্টটি এলাকার কৃষি ও কৃষকদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে। এটা যদি কেউ বন্ধ করার চেষ্টা করে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।
ইউএনও শারমিন আক্তার বলেন, আমাদের এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আমাকে এ ব্যাপারে সকালে জানিয়েছেন। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।