গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:১৬ পিএম
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফরিদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ। প্রবা ফটো
সংসদে স্বতন্ত্র মোর্চা গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তার এই আগ্রহের কথা বলেন।
আজাদ বলেন, ‘যদি আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়, আমি মনে করি বিরোধী দলের যে ১১ জন আছেন, তাদের চেয়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারব। আমরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করব। সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরব। সরকারের যে ঘাটতি আছে সেগুলো তুলে ধরব।’
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে আজাদ বলেন, ‘এই প্রথম ৬২টি আসন পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ১১টি।’ তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সেই বাধা নেই। তিনি বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্টে তার পরিবারের শহীদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সশ্রদ্ধ সালাম জ্ঞাপন করে আজাদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা। অর্থাৎ সোনারবাংলা তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজগুলো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে শেষ করছেন। দেশ আজ অগ্রগতির পথে। আমরা নিম্ন আয়ের দেশে থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হয়েছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের কাছাকাছি চলে এসেছে। সর্বোপরি বাংলাদেশ এখন আর দরিদ্র দেশে নাই। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
ফরিদপুরের কর্মসংস্থান বিষয়ে আজাদ বলেন, ‘ফরিদপুরের কোনো একটা অঞ্চলে একটা শিল্পপার্ক গড়ে তুলব। ভোলা থেকে আমাদের যে গ্যাস আসবে, সেটা পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকা সরবরাহ করা সম্বভ নয়। সে কারণে এলপিজির মাধ্যমে ফরিদপুরে আমরা গ্যাস নিয়ে আসব। তাতে করে এখানে শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে। এই ২১টি জেলার মানুষের চাকরির জন্য আর ঢাকা যেতে হবে না। ছেলেমেয়রা পাশ করার পর ফরিদপুরেই চাকরি পাবে। এটাই ফরিদপুরবাসীর প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি।’ এ সময় ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী জাহিদ, পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক মনিরুল হাসান মিঠু, যুগ্ম আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন, হা-মীম গ্রুপের পরিচালক বেলাল হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ নির্বাচনী এলাকার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।