× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চা শিল্প

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বাগানে চলছে প্রুনিং

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:২৯ এএম

শীত মৌসুমের শুরুতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো প্রুনিং হয়েছে মৌলভীবাজারের ৯১টি চা-বাগানে। প্রবা ফটো

শীত মৌসুমের শুরুতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো প্রুনিং হয়েছে মৌলভীবাজারের ৯১টি চা-বাগানে। প্রবা ফটো

শীত মৌসুমে প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কেটে ফেলা হয় চা-বাগানের উপরিভাগ। যাকে বলা হয় প্রুনিং বা চা গাছ ছাঁটাই। শীত মৌসুমের শুরুতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো প্রুনিং শুরু হয়েছে মৌলভীবাজারের ৯১টি চা-বাগানে। বাগানগুলোর সবুজাভ ভাব নেই এখন, দেখা যায় পাতাশূন্য গাছদের সারি। দেশের ১৬৭টি চা-বাগানের সব চা গাছ ছাঁটাই করা হয় এ সময়ে।

চা বিশেষজ্ঞরা জানান, চায়ের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চা-বাগানগুলোতে প্রুনিং করা হয়। চা-বাগানের ভাষায় প্রুনিংয়ের আরেকটি অর্থ কলম করা। এর একটি পদ্ধতি হলো ব্রিদার। এ ধরনের পদ্ধতিটি হচ্ছে মাটি থেকে যে গাছগুলো ২৪ ইঞ্চি উচ্চতায় ছাঁটাই করা হয় সে গাছগুলোতে অতিরিক্ত একটি ডাল রাখা হয়। এ ডাল রাখার ফলে চা গাছগুলো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সূর্যালোক থেকে তার প্রয়োজনীয় খাদ্য-পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। এ ছাড়া নানা ধরনের প্রুনিং করা হয় চা-বাগানে। যার মধ্যে আছে, কলার প্রুনিং (গলাকাটা ছাঁটাই), মিডিয়াম প্রুনিং (মধ্যম ছাঁটাই), লাইট প্রুনিং (হালকা ছাঁটাই), লো প্রুনিং (নিচু ছাঁটাই) এবং ক্লিন প্রুনিং (পরিষ্কার ছাঁটাই)। চা গাছের বয়স, মাটির উর্বরতা, উচ্চতা ইত্যাদি বিবেচনায় চা-বাগানের সেকশন প্রতি আলাদা আলাদা প্রক্রিয়ায় ছাঁটাই করা হয়। প্রুনিংয়ের মাস খানেক পরই সাধারণত বুশ (কাটা ডালগুলোর অংশ) থেকে চায়ের কুঁড়ি বের হয়। কুঁড়ি বের হওয়ার পর যে ডালটি কাটা হয়নি সেটিও কেটে ফেলা হয়। প্রুনিংয়ের পর চা-বাগানে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয়। ফলে বর্ষার শুরুতেই নতুন কুঁড়ি ও পাতায় ভরে যায় চা গাছগুলো। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে চিরায়ত সবুজাভ রূপে ফেরে চা-বাগান। যার মধ্য দিয়ে নতুন উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়।

এম এম ইস্পাহানি টি কোম্পানির জেরিন চা-বাগানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সেলিম রেজা বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে লাইট প্রুনিং শুরু হয়। এরপর জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দিতে হয় ‘ডিপ স্কিপ’। মূলত চায়ের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রুনিং করা হয়। এ সময় চা-বাগানগুলোয় সবুজের সমারোহ থাকে না। চা গাছে প্রুনিং মানেই হলো নতুন জীবন দান। এজন্য প্রুনিং পরবর্তী সময়ে বাগানগুলোতে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা, মাটিতে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য উপাদান প্রভৃতি বিষয়গুলো বিশেষভাবে নজরে রাখতে হয়।’

ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, ‘ভূ-প্রকৃতি ও অবস্থানভেদে কোনো বাগানে ডিসেম্বর মাসে আবার কোনো বাগানে জানুয়ারি মাসে প্রুনিং শুরু হয়। প্রতি বছর মার্চ মাসের শুরু থেকে প্রায় ৯ মাস চা উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু থাকে। এ সময়টাকেই বলা হয় চা উৎপাদন মৌসুম। মৌসুমের পরেই বাগানগুলোতে চায়ের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতির প্রুনিং করা হয়। চায়ের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গাছে প্রুনিং করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। মৌলভীবাজার জেলায় ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রুনিং চলবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা