সিলেট-১
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:৫৪ পিএম
সিলেট-১ ‘মর্যাদার’ আসন এবার মন্ত্রীহীন। ছবি : সংগৃহীত
সিলেট মহানগরী ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনটিকে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আসনটি থেকে এ পর্যন্ত যারা নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন, তারা প্রত্যেকেই সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু নবগঠিত মন্ত্রিসভায় এবার এ আসন থেকে কাউকে রাখা হয়নি।
স্বাধীনতার পর বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দলই সরকার গঠন করেছে। ফলে সিলেট-১ আসনটি পরিচিতি পেয়েছে মর্যাদাকর আসন হিসেবে।
এ ছাড়া সংসদ নির্বাচনের আগে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের প্রধানগণ সিলেটে আসেন। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তারা।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগ থেকে তিনজনকে রাখা হলেও ওই আসন থেকে কাউকে রাখা হয়নি। গত সরকারের মেয়াদে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও আব্দুল মোমেন পুনরায় নির্বাচিত হলে অনেকে ধারণা করেছিলেন, নতুন মন্ত্রিসভায় এবারও তাকে রাখা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ঠাঁই হয়নি।
গত ২৭ বছরের ইতিহাসে যে দলই সরকার গঠন করেছে, এই আসনের বিজয়ী এমপি মন্ত্রিসভায় ছিলেন। ১৯৯১ সালের বিএনপি সরকারের সময় সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
১৯৯১ সালে সিলেট থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছিলেন খন্দকার আব্দুল মালিক। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। নির্বাচনে বিজয়ী হুমায়ুন রশীদকে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত করে।
এরপর ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এই আসনে এমপি হয়ে সংসদে আসেন এম সাইফুর রহমান। বিএনপি ও জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এর আগে বিএনপির ৯১ সরকারেরও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
২০০৮ ও ২০১৪ সালে এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলান। সাইফুর রহমান, আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শাহ এমএস কিবরিয়ার কারণে দেশের রাজনীতিতে সিলেট মানেই অর্থমন্ত্রী এমন ধারণা জন্মায়।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আবুল মাল আব্দুল মুহিত স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে তার ভাই আব্দুল মোমেনকে প্রার্থী করেন। প্রথম নির্বাচনে জয়ী মোমেনকে শেখ হাসিনা সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন।
মোমেনসহ গত সরকারের মন্ত্রিপরিষদে সিলেট বিভাগের যে পাঁচজন ছিলেন, তাদের কারোরই নতুন পরিষদে ঠাঁই হয়নি। গত মন্ত্রিসভায় সিলেটের মন্ত্রীরা হলেন- সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এমএ মান্নান পরিকল্পনামন্ত্রী, মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব আলী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাহবুব আলী ছাড়া সবাই আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে, দেশের উন্নয়নে তিনি যা ভালো মনে করেছেন, সেটাই করেছেন।’
নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেটের তিনজন
নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগ থেকে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। মৌলভীবাজার-৪ থেকে সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুস শহীদ এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হয়েছেন। তাকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি হবিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করলেও তার পিতা জিতেন্দ্র লাল সেনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। আর সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত শফিকুর রহমান চৌধুরীকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
মন্ত্রীহীন সুনামগঞ্জ
সিলেট বিভাগের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে উর্বর এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ। হাওরবেষ্টিত এই জেলা থেকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুস সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেনের মতো নেতারা উঠে এসেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন তারা। তাদের পরে গত দুই মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাকে না দেওয়ায় এবার মন্ত্রীহীন সুনামগঞ্জ জেলাও।