টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৪৫ এএম
সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। প্রবা ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভায় সদ্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক না থাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে জেলাজুড়ে। বিশেষ করে হতাশা প্রকাশ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ। তবে দেলদুয়ার-নাগরপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জেলাবাসী। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল ও আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককে।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবারও মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন বলে ধারণা ছিল তার অনুসারীদের। কিন্তু মন্ত্রী না হওয়ার খবরে হোঁচট খান তারা। তারপরও তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক মিয়া বলেন, আব্দুর রাজ্জাক গত সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি তার নিজ জেলাসহ সারা দেশে কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আমরা আশায় ছিলাম তিনি এবারও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু তিনি মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ায় জেলাবাসী হতাশ। জেলায় একটা মন্ত্রী থাকলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। আমরা আশা করি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ড. আব্দুর রাজ্জাককে মূল্যায়ন করবেন।
ধনবাড়ী পৌর এলাকার আবু সাঈদ বলেন, আব্দুর রাজ্জাক কয়েকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ধনবাড়ী-মধুপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এবার তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি। আমাদের দুই উপজেলার মানুষ হতাশ।
ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ বলেন, আমরা আশাবাদী ছিলাম ড. আব্দুর রাজ্জাক আবারও মন্ত্রিত্ব পাবেন। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ায় জেলাবাসী হতাশ। তবে তাকে নেত্রী মূল্যায়ন করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
জানা যায়, ড. আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দলটির প্রভাবশালী এই নেতা। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে জেলার আরেক সংসদ সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার অনুসারীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকার উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, আহসানুল ইসলাম টিটু প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় উচ্ছ্বসিত দুই উপজেলার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল ও আতশবাজি ফুটিয়ে উচ্ছ্বাস করেছে। আমরা আশা করছি আহসানুল ইসলাম টিটু এলাকার ব্যাপক উন্নয়নসহ মানুষের ভাগ্য বদলে কাজ করবেন।
দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, এই খুশি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই আহসানুল ইসলাম টিটুকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। আমরা আশা করি তিনি নাগরপুরসহ জেলার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন।
জানা যায়, টিটু এর আগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হলেও একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হন। এ ছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার বেড়ে ওঠাও রাজনৈতিক পরিবারে। তরা বাবা শিল্পপতি ও আইনজীবী হাজী মকবুল হোসেন ঢাকা-৯ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কও ছিলেন।