নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:২১ এএম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রবা ফটো
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর টানা দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে দলটি। এবারের মন্ত্রিসভায়ও দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে পুনরায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও বেগমগঞ্জ) উপজেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনুসারীরা।
ছাত্ররাজনীতি থেকে বেড়ে ওঠা ওবায়দুল কাদেরের জন্ম একসময়ের নদীভাঙনকবলিত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বড় রাজাপুর গ্রামে। ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি তার জন্ম। তার বাবা মোশাররফ হোসেন ছিলেন বসুরহাট এ এইচ সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। নোয়াখালী কলেজে অধ্যয়ন অবস্থায় তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন ওবায়দুল কাদের। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) কোম্পানীগঞ্জ থানা শাখার অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ বছর কারাবন্দি ছিলেন ওবায়দুল কাদের। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জাতীয় রাজনীতি
ছাত্রজীবন শেষে জাতীয় রাজনীতিতে পদার্পণের আগে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে জনসেবক হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়ে পরাজিত করেন শক্তিশালী নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পাঁচ বছর পূর্ণ মেয়াদে যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ওবায়দুল কাদের। ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এক-এগারোর সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ মার্চ গ্রেপ্তার হন ওবায়দুল কাদের। ১৭ মাস ২৬ দিন পর ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। কারাগারে থাকাকালে বর্ণনা ‘অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি।
২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ২১তম সম্মেলনেও পুনরায় তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর ২২তম সম্মেলনেও টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বাবা মোশাররফ মাস্টার অত্যন্ত সহজসরল জীবনযাপন করতেন। সেই পরিবার থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি আজকের ওবায়দুল কাদের হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হয়ে আমাদের নেতা ওবায়দুল কাদের আজ এত কিছুতে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। তিনি আমাদের এই অঞ্চলসহ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের।
ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তিনি বলেন, আমাদের বাবা ছিলেন স্কুলমাস্টার। আমাদের লালনপালন করতে গিয়ে তাকে কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, সেটা দেখেছি। আমার ভাই দেশের অনেক বড় বড় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। গর্বে বুকটা ফুলে ওঠে। তিনি নিতান্তই একজন সৎ মানুষ। একজন স্বচ্ছ, কর্মঠ রাজনীতিবিদ। সারা জীবন তিনি কর্মের মধ্যে কাটিয়েছেন।
কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান বলেন, আমাদের গর্ব ওবায়দুল কাদের। তিনি আমাদের মা, মাটি ও মানুষের নেতা। চতুর্থবারের মতো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।