টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:৪৫ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:৪৯ পিএম
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সদ্যসাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে প্রকাশ্যে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন দলটি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, ‘রাজ্জাককে আমি পেটাব। কত বড় নেতা হইছে ... বাচ্চা! আমার টাকায় লেখাপড়া কইরা, ওয়ান-ইলিভেনে সংস্কারবাদী হইছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলে মাফ করাইছি। বেইমানের বাচ্চা, ঘুষ খেয়ে টাকা হইছে না? ওর টাকা আমি ... ও তো আমারে চিনে না।’
গত মঙ্গলবার নির্বাচনী সহিংসতা মামলার আসামি লতিফ সিদ্দিকীর ছয় অনুসারীকে পুলিশ আটক করলে তাদের মুক্তির দাবিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে কালিহাতী থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেন সাবেক মন্ত্রী টাঙ্গাইল-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংস সদস্য লতিফ সিদ্দিকী। এ আসনের ছয়বারের এমপি তিনি। অবরোধের সময় লীতফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের ভিডিও (১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড প্রায়) ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি টাঙ্গাইল-১ আসনের পাঁচবারের এমপি ড. আব্দুর রাজ্জাককে পেটানোর হৃমকি দেন। এরপর পুলিশ লতিফ সিদ্দিকীর ছয় অনুসারীকে ছেড়ে দেয়।
ওই বক্তব্যের বিষয়ে লতিফ সিদ্দিকীর একজন অনুসারী বলেন, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকে সমর্থন দেয়। তিনি ষষ্ঠবারের মতো এমপি হন। এখানকার আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু সদ্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আত্মীয়। তিনি লতিফ সিদ্দিকীকে হারাতে নানাভাবে চেষ্টা করেন। লতিফ সিদ্দিকীর অনুসারীদের আটকের পেছনে হয়তো রাজ্জাকের হাত ছিল। এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে লতিফ সিদ্দিকী এমন কথা বলতে পারেন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত পরাজিত প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু বলেন, কোনো সম্মানীয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ রকম অসম্মানজনক কথা কেউ বলতে পারে না। সদ্য সাবেক কৃষিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লতিফ সিদ্দিকী যা বলেছেন তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। কাউকে অসম্মান করে নিজে সম্মান পাওয়া যায় না। তিনি জামায়াত-বিএনপির ঘাড়ে ভর করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কালো টাকা ছড়িয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, ‘এ বিষয় আমার জানা নেই।’ টাঙ্গাইল–৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ট্রাক প্রতীকে ৭০ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫ ভোট।
লতিফ সিদ্দিকীর সড়ক অবরোধের সময় ঠাণ্ডুর নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মালেক ভূঁইয়া, কালিহাতী পৌর মেয়র নুরন্নবী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করতে থানার দিকে যান। সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এতে লতিফ সিদ্দিকী আরও ক্ষুব্ধ হন। যারিা লাঠি নিয়ে এসেছিল তাদের নামের তালিকা করে রাখতে বলে লতিফ সিদ্দকী। তিনি বলেন, ‘মেয়র নুরুন্নবীর সঙ্গে আমার অন্য খেলা আছে।’