× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা

বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার অভিযোগ, আটক-গ্রেপ্তার

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৫১ পিএম

সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবা ফটো

সুনামগঞ্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবা ফটো

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দোয়ারাবাজা উপজেলায় বিজয়ী নৌকা ও পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনেরও বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই পুলিশের রাবার বুলেটে আহত হয়েছে। বুধবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের পাশের গ্রাম পূর্ব মাছিমপুর ও নৈনগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই দুই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৭ তারিখে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন মুহিবুর রহমান। তার কাছে হেরে যান ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

এর জেরে গত মঙ্গলবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া পূর্ব মাছিমপুরের আমরু মিয়ার ছেলে শামীম আহমদের সঙ্গে নৌকার সমর্থক আবুল হোসেনের কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়ে নৈনগাঁওয়ের আবুল হোসেনের লোকজন শামীম আহমদের পূর্ব মাছিমপুরের বাড়িতে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ নিয়ে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে পুলিশ এসে রাতে পরিস্থিতি শান্ত করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু বুধবার সকালে আবুল হোসেনের দোয়ারা বাজারের বাড়িতে গিয়ে শামীম আহমদের লোকজন হামলা চালায়। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোড়ে। সংঘর্ষ ও রাবার বুলেটে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ বলেন, নির্বাচনী সহিংসতার জেরে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

শরীয়তপুরে গরু ব্যবসায়ীর পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে গনি শিকদার (৫৫) নামে এক গরু ব্যবসায়ীর পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পশ্চিম লোনসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আব্দুল গনি শিকদার উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকা প্রসাদ এলাকার হাসেম শিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, গনি শিকদারের সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল আলী শিকদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ছাড়াও সংসদ নির্বাচনে গনি শিকদার ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. খালেদ শওকত আলীর সমর্থক ছিলেন। তিনি নির্বাচনের দিন ৭১ নম্বর চেরাগ আলী বেপারীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। অন্যদিকে আব্দুল আলী শিকদার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীমের সমর্থক ছিলেন। বুধবার সকালে গরু কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন গনি শিকদার। এ সময় তিনি পৌরসভার পশ্চিম লোনসিং এলাকায় পৌঁছালে আব্দুল আলী শিকদার এবং তার দুই ছেলে মোরশেদ শিকদার ও আশিক শিকদার তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা হাতুড়িপেটা করে গনি শিকদারের ডান পা ভেঙে দেন।

জানতে চাইলে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রধান সমন্বয়ক ও নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচনের ঘটনা নিয়ে যাতে কোনো সহিংসতা না ছড়ায় সে বার্তা আমাদের নেতাকর্মীদের দেওয়া হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের দলের কেউ না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আমি যতটুকু জানি ব্যক্তিগত ঝামেলা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াখালীতে পরাজিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ 

নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে নির্বাচনের পর শতাধিক কর্মী-সমর্থককে মারধর, বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা, ভাঙচুর ও তালা দেওয়া এবং প্রায় ৪২ জন প্রিসাইডিং কর্মকতার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ট্রাক প্রতীকের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শিহাব উদ্দিন শাহিন। বুধবার সকালে জেলা শহরের চেয়ারম্যান পার্কের নিজ বাসভবনে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। 

মেহেরপুরে সহিংসতা মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান কারাগারে

মেহেরপুর-১ আসনের নির্বাচনে মুজিবনগর উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছে মুখ্য বিচারিক হাকিম মুজিবনগর আদালতের বিচারক জাহিদুর রহমান। বুধবার দুপুরে মামলার ১৮ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত ১৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং জিয়াউদ্দিন বিশ্বাসের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

দৌলতপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, ৩ আসামি গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার-১ (দৌলতপুর) আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। রবিবার ভোটের ফল ঘোষণার পর দৌলতপুরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি জায়গায় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা, মারধর, অগ্নিসংযোগ ও হুমকির ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় প্রায় ১০ জন আহত হয়। এসব ঘটনায় দৌলতপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ, ছাবেদ আলী মণ্ডল ও রিংকু বিশ্বাস। 

ঝিনাইদহে নিহত বরুণের বাড়িতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদের নেতারা

ঝিনাইদহে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত নৌকার সমর্থক ব্যবসায়ী বরুণ ঘোষের বাড়িতে গেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তারা নিহতের বাড়ি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি, তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

বুধবার দুপুরে বাড়ি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার সাহা, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুভাশীষ কুমার বিশ্বাসসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা