× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নোয়াখালী ও পাবনায় পুনঃনির্বাচনের দাবি দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর

নোয়াখালী ও পবনা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪৭ পিএম

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:০৪ পিএম

পুনঃনির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহা. আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও আব্দুল হামিদ মাস্টার। প্রবা ফটো

পুনঃনির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোহা. আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও আব্দুল হামিদ মাস্টার। প্রবা ফটো

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (কাঁচি প্রতীক) মোহা. আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) আব্দুল হামিদ মাস্টার।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগে এই দাবি জানান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। এর আগে রবিবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর একই বিষয়ে লিখিত আবেদন জমা দেন তিনি। এ ছাড়া মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুনঃনির্বাচনের দাবি করেন আব্দুল হামিদ মাস্টার।

নোয়াখালী-২

লিখিত অভিযোগে আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক বলেন, গত ৭ জানুয়ারি দুপুর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭নং বজরা ইউনিয়ন ও ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়নের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কাস্টিং ভোট ছিল ৫০০ থেকে ৬০০। আমি নিজে প্রতিটি কেন্দ্রে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার ও অ্যাপ্সের মাধ্যমে কাস্টিং ভোট সম্পর্কে জানতে পারি। এ সময় নৌকা প্রার্থীর নেতাকর্মীরা কাঁচি মার্কার এজেন্টদের হত্যার হুমকি দিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে থাকে। আমি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার (নোয়াখালী), সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং নোয়াখালী পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানাই। তখন ভোট প্রদানের সময় শেষ হতে বাকি ছিল আর মাত্র ৩০ মিনিট। পরবর্তীতে প্রতিটি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় দেখা যায় চৌদ্দশ’র ওপর ভোট কাস্টিং হয়েছে। এতেই প্রতীয়মান হয় যে, মোরশেদ আলমের (নৌকার প্রার্থী) সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে আঁতাত করে জাল ভোট দিয়েছে।

পুনরায় ভোটের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নোয়াখালী-২ আসনের অনান্য সব কেন্দ্রের কাস্টিং ভোটের সঙ্গে ৭নং বজরা ও ৬নং নাটেশ্বর ইউনিয়নের সব ভোটকেন্দ্রের কাস্টিং ভোট তুলনা করলে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হবে। ন্যাক্কারজনক ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ইউনিয়ন দুইটির সব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনঃরায় ভোট গ্রহণ এবং জড়িত সব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক বলেন, ‘প্রতিঘণ্টার গৃহীত ভোটের হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে রয়েছে। তাহলে শেষের আধাঘণ্টায় আরও তিন থেকে চারগুণ ভোট এলো কোথা থেকে তা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। বিষয়টি ভিডিও ফুটেজসহ আমি জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রতিকার না পেলে উচ্চ আদালতে যাব। আমি ওই দুই ইউনিয়নে আবারও ভোটগ্রহণের দাবি জানাই।’

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। তখনও আমরা ফলাফল ঘোষণা করিনি। অভিযোগের পর আমরা ওই দুই ইউনিয়নে ভোটের হিসাব আবারও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে ফলাফল ঘোষণা করেছি।’

পাবনা-৩

লিখিত অভিযোগে আব্দুল হামিদ মাস্টার বলেন, গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার ভোটকেন্দ্র থেকে নৌকার প্রার্থীর ছেলে ও তাদের সমর্থকরা আমার এজেন্টদের জোর করে বের করে দিয়ে জাল ভোট দিয়েছে, অবাধে ভোট কেটে নিয়েছে। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় এসব অনিয়ম করা হয়েছে। অনেক ভোটকেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্ট এসব অভিযোগের সত্যতা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের তুলনায় ভোট বেশি কাটা হয়েছে। ফলাফল পর্যালোচনা করে তার প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া ব্যালটের ‘মুড়ি বই’ অংশ পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেখানে ভোটারদের কোনো নম্বর বা স্বাক্ষর নেই। আবার অনেক ভোটকেন্দ্রের বাইরে থেকে নৌকার সমর্থকরা আমার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়েছে। অনেককেই ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। কারচুপি ও জালভোটে বিজয়ী হওয়ার পর আমার অনেক সমর্থককে মারধর করা হয়েছে। ৩০ জনের মতো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। অন্তত দেড় শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর করেছে নৌকার লোকজন।

জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন তা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটের ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

পুনঃনির্বাচনের দাবি করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পাবনা-৩ আসনে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে করি। ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার সব ভোটকেন্দ্রের এবং চাটমোহর উপজেলার ৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল আমি প্রত্যাখ্যান করছি। তাই যাচাই-বাছাই করে পাবনা-৩ আসনে ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার সকল ভোটকেন্দ্র এবং চাটমোহর উপজেলার ৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা