টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:১০ পিএম
৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলে ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কালিহাতী থানা ঘেরাও এবং টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন টাঙ্গাইল-৪ আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। প্রায় ২ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কমবেশি ৫ কিমি এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও থানা ঘেরাও করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার দিকে লতিফ সিদ্দিকী ও তার কর্মীসমর্থকরা মহাসড়কে বসে পড়েন। গ্রেপ্তার নেতাকর্মীর দ্রুত মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কের পাশে কালিহাতী থানা ঘেরাও করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টাঙ্গাইল পুলিস লাইনস থেকে দাঙ্গা পুলিশ এনে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। এ সময় পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা লতিফ সিদ্দিকীকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন।
জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার কর্মীদের মুক্তি দেওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে।

বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর থানা ঘেরাও এবং মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। পরে তিনি ঘটনা বিস্তারিত জানেন লতিফ সিদ্দিকীর কাছ থেকে। এরপর কাদের সিদ্দিকী থানার ভেতর প্রবেশ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, এজাহারে নাম না থাকা আটক চারজন কর্মীকে তাৎক্ষণিক মুক্তি এবং এজাহারে নাম থাকা দুই কর্মীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে পাঠানো হবে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বেলা ৩টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার সমর্থক হাসমত আলীকে বিনা অপরাধে থানায় আটক করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।‘
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, হাসমত একজন এজাহারভুক্ত আসামি। অপরাধ ছাড়া কাউকে আটক করা হয়নি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৭০ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী মোজাহারুল ইসলাম তালুকদার পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৫ ভোট।