পিরোজপুর-২
পিরোজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:৫১ এএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:২২ এএম
জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ফাইল ছবি
ভোটের মাঠে এবারই প্রথম পরাজিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও নেছারাবাদ) আসনে এই প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন তারই সাবেক একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজ। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলে মহিউদ্দিন মহারাজ ঈগল প্রতীক নিয়ে ৯৯ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৩৩ ভোট।
মহিউদ্দিন মহারাজ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রশাসক ছিলেন। তার বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলীখালী ইউনিয়নের হরিনপালা গ্রামে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাড়ি পিরোজপুর-২ আসনের ভান্ডারিয়া শহরে। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পিরোজপুর-২ আসন থেকে ১৯৮৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে আলাদা হয়ে জাতীয় পার্টি (জেপি) নামে নতুন দল গঠন করেন। বিভিন্ন সময় পাঁচবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাও ছিলেন।
মঞ্জুর এবারে হারের পেছনে তার দলের নেতারা তাকেই দায়ী করছেন। তারা বলেন, জাতীয় পার্টি (জেপি) শুধুমাত্র নামে একটি দল রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তার কোনো কর্মী ছিল না। ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করার মতো কোনো কর্মী মাঠে কাজ করাতে পারেননি। এমনকি এ নির্বাচনী আসনের অনেক ইউনিয়নে দলের কমিটি নেই। তারা জাতীয় পার্টিকে (জেপি) এক নেতার এক দল বলছেন।
মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা শহীদ হাসান বলেন, আমাদের এ পরাজয়ের পেছনে আমরা আমাদের সমাজের নৈতিকতাকে দায়ী করব। আমরা যোগ্য লোককে মূল্যায়ন করতে পারিনি। আর আমাদের প্রার্থী জোটের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের অনেক লোক আমাদের পক্ষে কাজ করেনি, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী তাসলিমা হোসেন বলেন, আমরা বাঙালিরা যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করতে পারিনি, তেমনি আমার এলাকার মানুষ মঞ্জুকেও মূল্যায়ন করল না। আমরা তো এ ধরনের নির্বাচন চাইনি। আমরা তো লাঙ্গল, সাইকেল নিয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। আমরা তো কখনও ভাবিনি যে নৌকা নিয়ে আমাদের হারতে হবে। বেলা ৩টা পর্যন্ত তো সব সেন্টার থেকে আমরা জয়ী ছিলাম, কিন্তু তারপরে কী হলো তা আমরা বলতে পারি না।
ঈগল প্রতীক নিয়ে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দীন মহারাজ বলেন, ‘আমি যখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন থেকে মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাস করে, আর এ কারণে মানুষ আমাকে বিপুল ভেটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে।’