দিনাজপুর-১
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:০৫ পিএম
মনোরঞ্জন শীল গোপাল। প্রবা ফটো
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য পরিচিত মুখ মনোরঞ্জন শীল গোপাল এবার নৌকার পাল তুলতে পারেননি। নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছেই তাকে হারতে হয়েছে। তার এই পরাজয় নিয়ে দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও অনেকে অবাক হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে। অটোরিকশায় চড়ে একজন সংসদ সদস্যের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার বিষয়টি সেদিন বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘটা করে প্রচার করেছিল। সেই নেতা এখন চড়েন ৪০ লাখ টাকার গাড়িতে। হয়েছেন জমি ও প্লটের মালিক। গত ১৫ বছরে এই সংসদ সদস্যের আয় বেড়ে ২২ গুণ হয়েছে। নগদ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৯৬ গুণ। পাশাপাশি তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে।
২০১৮ সালে এক সংবাদ সম্মেলনে মনোরঞ্জন শীল গোপালকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতা। সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে তারা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের তিনি পুনর্বাসন করেছেন। মূলত এজন্য বড় মাশুল দিতে হয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মনোরঞ্জন শীল গোপালকে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিএনপির বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকারিয়া জাকার কৌশলে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা বেশি ছিল এই আসনে। সে কারণে মনোরঞ্জন শীল পরাজয়বরণ করেন।
ট্রাক প্রতীকের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া জাকার সমর্থক তা উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘এবার নির্বাচনের রায় হয়েছে অন্যায়-জুলুম-দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পেরেছেন।’
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া জাকা ১ লাখ ১৫ হাজার ৫১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম নৌকার প্রার্থী মনোরঞ্জন শীল গোপাল পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৯ ভোট। ৩ লাখ ৯২ হাজার ৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ২৫ হাজার ৭২৭ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৬০২ ভোট। ভোট পড়েছে ৫৭ দশমিক ৪৬ শতাংশÑ যা দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।