রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:০১ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:০৫ পিএম
রুমানা আলী টুসি ।প্রবা ফটো
গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-পিরুজালী-মির্জাপুর-ভাওয়ালগড়) আসনটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত রহমত আলী এ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও। বাবার পথ ধরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে রুমানা আলী টুসি নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি এ আসনের প্রথম নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন জর্জ বলেন, ‘বাবার পথ ধরে এবং আদর্শ ধারণ করে তিনি মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন। ভোট প্রার্থনার সময় তারই রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং সহোদর বড় ভাই গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামিল হাসান দুর্জয় পাশে ছিলেন।’
উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘রুমানা আলী টুসি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বহুমুখী অর্পিত দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে সম্পাদন করেছেন। নানা কারণে তিনি পরীক্ষিত একজন নারী নেত্রী হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্ষমতার প্রমাণ দেন। তা ছাড়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের জনপ্রিয়তায়ও তিনি নৌকা প্রতীকে লড়ে বিজয়ী হন।’
শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম প্রধান বলেন, ‘শিক্ষিত, সৎ নারী হিসেবে এরই মধ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রুমানা আলী টুসি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। নারীদের মধ্যেও তার এ যোগ্যতা নির্বাচনী প্রচারে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে। আর তাই গাজীপুর-৩ আসনের ভোটাররা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাকে নির্বাচিত করেছে।’
উপজেলার কেওয়া গ্রামের হামিদা খাতুন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই রুমানা আলী টুসিকে তার বাবা প্রয়াত রহমত আলীর সঙ্গে দেখেছি। সেদিনের টুসি আজ একজন যোগ্য নারী নেত্রী। যেদিন আমাদের এখানে ভোট চাইতে এসেছে সেদিন দেখে অবাক হয়েছি। সেদিনই মনে হয়েছিল টুসিকে মানুষ জনপ্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা দেবে। আজ তাই হয়েছে।’
শ্রীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ভোটের কয়েক দিন আগে শ্রীপুরের শাপলা সিনেমা হলের কাছে নির্বাচনী জনসভায় টুসি বক্তব্য দিয়েছেন। তার সহোদর বড় ভাই জামিল হাসান দুর্জয় তার বাবা-মা ও পরিবারের সঙ্গে শ্রীপুরের মানুষের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সেদিন শুধু তারা দুই ভাই-বোন কাঁদেনি, উপস্থিত সকল মানুষ বাস্তবধর্মী স্মৃতি শুনে কেঁদেছিল। সেদিন সবাই বুঝতে পেরেছিল রহমত আলীর পরিবারের সঙ্গে শ্রীপুরের মা মাটির সম্পর্কের ইতিবৃত্ত। যারা নৌকার পক্ষে ছিল না সেদিনের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করে কেউ দলীয় প্রতীকের বাইরে যেতে পারে না। ব্যক্তিত্বে বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু দলের সঙ্গে বিরোধ করলে সে দলে থাকার যোগ্যতা হারায়। এই জায়গা থেকে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ জেলার প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। জেলাপর্যায়ের সংসদীয় আসনগুলোতে বিজয়ের নেপথ্যে ছাত্রলীগ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজের প্রমাণ রেখেছে।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রুমানা আলী টুসি ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ পেয়েছেন ১ লাখ এক হাজার ৬৭৪ ভোট।