× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভাবনা বেশি ভাসমান ভোটারদের নিয়ে

রেজাউল করিম, গাজীপুর

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:১২ পিএম

ভাবনা বেশি ভাসমান ভোটারদের নিয়ে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শেষ হয়েছে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায়। তবে কার্যত গত বৃহস্পতিবার রাতেই ভোটের প্রচার শেষ করেছেন প্রার্থীরা। আগামীকাল রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় শুরু হবে ভোট গ্রহণ। 

গাজীপুরে শেষ দিনের প্রচারণায় ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা। তারা সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতিরও প্রত্যাশা করেছেন। সরেজমিনে জানা গেছে, গ্রামের ভোটারদের মধ্যে ভোট প্রদানে আগ্রহ বেশি। তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিল্পাঞ্চল ও শহরের ভোটারদের মধ্যে। গাজীপুরের ৫টি আসনে ভোটের মাঠে ৩৭ প্রার্থী রয়েছেন। মূলত আওয়ামী লীগ মনোনীত ও আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

জেলা কালিয়াকৈর ও সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-১ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা বিষয়েক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তার সঙ্গে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল। 

গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। সিটি কর্পোরেশনের ১৯ থেকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মহানগর স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি কাজী আলিম উদ্দিন। 

শ্রীপুর ও গাজীপুর সদরের আংশিক নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রোমানা আলী টুসি। তার সঙ্গে ভোটের মাঠে সরব ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ। তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য। 

কাপাসিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করছেন সিমিন হোসেন রিমি। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলম আহমেদের। 

কালীগঞ্জ, সিটির তিনটি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৫ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকি। এখানে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান।

সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলনামূলক গ্রামের মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি। কমবেশি সবাই ভোট ও প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনায় মেতে রয়েছে। তারা কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়েও চলছে আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। তবে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও তারা ভোট দিতে যাবেন বলে জানান। গ্রামের বিপরীত চিত্র শহর ও শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। এসব এলাকার ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি ভোটকেন্দ্রে যাবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। তাদের মতে যাকেই ভোট দেব, সে-ই মূলত ক্ষমতাসীন দলের লোক। 

বারিয়া কেশরিপা গ্রামের বাসিন্দা শহর আলী বলেন, ‘আমাদের গ্রামের সবাই ভোট দিতে যাবে। আমিও সকাল সকাল ভোট দিতে যাব। আমাদের এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তার ভাই এগিয়ে রয়েছেন।’ সবুজ আহমেদ নামে এক ভোটার বলেন, ‘আমি ও পরিবারের সদস্যরা এই ডামি নির্বাচন বর্জন করেছি। ভোটকেন্দ্রে যাব না, ভোটও দিব না। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিলেও আওয়ামী লীগ আবার নৌকা তো তাদেরই। তাহলে ভোটটা দিব কাকে।’ 

৫৯৫টি কেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

গাজীপুরে ৫টি সংসদীয় আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৩৫টি। এর মধ্যে ৫৯৫ কেন্দ্রকেই ‘ঝুকিপূর্ণ’ বা অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে রাজধানী লাগোয়া গাজীপুর-২ আসন ও গাজীপুর-১ আসনে অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তা ছাড়া গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর একাংশ) ৯০টি, গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে ৭২টি এবং গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ ও সদর একাংশ) আসনে ৫৪টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শঙ্কায় কারখানা শ্রমিক ও নারী ভোটার 

শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের ভোটারদের বড় অংশই শ্রমিক। প্রার্থীরাও মনে করছেন শ্রমিকরা যেদিকে যাবে সেই প্রার্থীই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শ্রমিক ভোটারদের মধ্যেও তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। বরং তারা নির্বাচনের দিনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ভোটার ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, ‘নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ও শহরে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক শ্রমিক পরবর্তী সংসদ সদস্য কে হবেন তা নির্ধারণের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারেন। নির্বাচনের দিনে ভোটের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে নারী ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে। না হলে ভোটকেন্দ্রে যাবে না নারী ভোটাররা।’ 

কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকার ভোটার শিউলি আক্তার বলেন, ‘দুজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভোট চাইতে এসেছিলেন। একজন স্বতন্ত্র অন্যজন নৌকা। ভোট দেওয়ার প্রতি আগ্রহ খুব নেই। তারপরও ভোটের দিনের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত।’

যত চিন্তা ভাসমান ভোটার নিয়ে 

গাজীপুরে ছোটবড় প্রায় ৫ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানায় লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করে। তাদের মধ্যে একটি অংশ দীর্ঘদিন গাজীপুরে থাকায় এখানেই ভোটার হয়েছে। বিশেষ করে টঙ্গী, বাসন, বোর্ডবাজার, চেরাগআলী, কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোর, মাওনা, রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অধিকাংশ ভোটার ভাসমান। তাদের ভোট গড়ে দেয় জয়পরাজয়ের হিসাবনিকাশ। তবে নির্বাচন উপলক্ষে টানা ছুটিতে অনেক ভোটার গ্রামে চলে গেছেন। ফলে এসব অঞ্চলে তুলনামূলক ভোট কম পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা রয়েছে তাদেরও অনেকেই ভোট দেওয়া নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। 

এমনই একজন কোনাবাড়ী এলাকার সাত্তার মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি স্টান্ডার্ড গার্মেন্টসে কাজ করি। এখানকার অনেকেই ভোটার, কারখানা ছুটি থাকায় গ্রামে চলে গেছেন। আমি ভোট দিব কি না, এখনও ঠিক করিনি। মন চাইলে গিয়ে দিয়ে আসব।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার এসএম কাজী সফিকুল আলম বলেন, ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে এবং ফেরত আসতে পারবেন। 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাজীপুরে সংসদীয় ৫টি আসনে ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সব কেন্দ্রকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে, কোনো শঙ্কা নেই ভোটারদের। এজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা