× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রচার শান্তিপূর্ণ হলেও কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মোহন আখন্দ, বগুড়া

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:০৮ পিএম

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:১৬ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বগুড়ার সাতটি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার শেষ হলেও বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জেলায় ভোটগ্রহণ পর্ব শান্তিপূর্ণ এবং কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি আদৌ সন্তোষজনক হয় কি না, তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বেশ চিন্তিত। শুধু প্রার্থীরাই নন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটকেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তারাও। এরই মধ্যে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার মোট ৯৬৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৬২টি বা ৬৮ শতাংশকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

জানা গেছে, ২০১৪ সালের মতো এবারও ভোটের আগে এবং ভোটের দিন হরতাল আহ্বানের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী ও ফেনীতে কয়েকটি কেন্দ্রে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রার্থী এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কারণ বিএনপি ভোট বর্জন করায় ১০ বছর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের আগের রাতে বগুড়ায় অর্ধশত কেন্দ্রে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

বগুড়ায় এবার ১৫টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ৭টি আসনে মোট ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে। আর সবচেয়ে কম ৫ জন করে প্রার্থী বগুড়া-৫ (ধুনট-শেরপুর) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনে। এ ছাড়া বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে ১২ জন, বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে ১০ জন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ)-এ ৭ জন এবং বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন। বগুড়ার ৭টি আসনের মধ্যে একমাত্র বগুড়া-৫-এ কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। আর সবচেয়ে বেশি ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বগুড়া-৩ আসনে।

২০১৪ সালে বিএনপির বর্জনের মুখে ভোটের আগের রাতে বগুড়া-৪ এবং বগুড়া-৭ আসনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত অর্ধশত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। ওই দুই আসনে এবারের পরিস্থিতি কেমন, সে সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে, তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

বগুড়া-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বলেন, এবার যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু তারপরও দুয়েকটি কেন্দ্রে হাঙ্গামা চালানো হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কমে যাবে। 

তিনি বলেন, ‘এখন প্রযুক্তির পরিবর্তন হয়েছে। এক স্থানে বসেই একাধিক জায়গায় হামলা করা যায়। তাই শঙ্কাটাও রয়ে যায়। আর এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলে ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়বে এবং তারা কেন্দ্রে আসতে চাইবে না।’ 

একই আসন থেকে নৌকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাসদে নেতা রেজাউল করিম তানসেন অবশ্য এসব শঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে এবার কেউ ভোটকেন্দ্রগুলোতে হামলা তো দূরের কথা, কেউ চিন্তাও করতে পারবে না।’

অপরদিকে বগুড়া-৭ আসনে ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিন বলেন, কেন্দ্রগুলোতে যাতে কোনো হামলার ঘটনা কেউ না ঘটাতে পারে, সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার জন্য বলা হয়েছে। তারপরও হয়তো দুয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি খুব বেশিও হবে না আবার কমও হবে না।’ 

এই আসনে নৌকার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা সরকার বাদল। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের মতো এবার ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটবে না।

প্রার্থীদের মতো ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যেও ভীতি কাজ করছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ধলিরকান্দি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মনিরা সুলতানা বলেন, ‘যেহেতু একটি দল এবার ভোট বর্জন করেছে, সেজন্য একটু তো ভয় আছেই। মারামারি এমনকি বোমা হামলাও হতে পারে। এগুলো নিয়ে ভয় তো একটু আছেই। কিন্তু তারপরও সরকারিভাবে যেহেতু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে কারণে ঝুঁকি হলেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’

তবে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলাজুড়ে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন এবং তার পরের দিনগুলোতে যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সেজন্য বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যে অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধ এবং তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য ১৫০টি মোবাইল টিম, ৩৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার মোট ভোটার ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৬০৪ জন। আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৮ ভোটার বগুড়া-৫ আসনে। আর সবচেয়ে কম ৩ লাখ ২৪ হাজার বগুড়া-৩ আসনে। অন্য আসনগুলোর মধ্যে বগুড়া-৭-এ ৫ লাখ ১২ হাজার ২৫৮, বগুড়া-৬-এ ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪২, বগুড়া-১-এ ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১০৯, বগুড়া-৪-এ ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৪ ও বগুড়া-২ আসনে ৩ লাখ ২৬ হাজার ১৮৬ জন ভোটার রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা