× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রামে ঝুঁকিতে ২৮ হেভিওয়েট প্রার্থী নির্ভার ৪

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:০১ পিএম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:০৬ পিএম

চট্টগ্রামে ঝুঁকিতে ২৮ হেভিওয়েট প্রার্থী নির্ভার ৪

নানা জল্পনাকল্পনা পেছনে ফেলে অবশেষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে রবিবার (৭ জানুয়ারি)। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খোদ আওয়ামী লীগের নেতারাই- যারা দলীয় মনোনয়ন পাননি। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, তৃণমূল বিএনপি, তরীকত ফেডারেশন, সুপ্রিম পার্টি, ন্যাপ, জাসদ, বিএনএফ, এনএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট অন্যান্য দলের মোট ১৫৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ভোটযুদ্ধে মাঠে রয়েছেন ৩২ জন হেভিওয়েট প্রার্থী। এর মধ্যে চারটি আসনে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নৌকার প্রার্থীরা নির্ভার।

নির্ভার চার প্রার্থীর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আছেন বর্তমান এমপি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বর্তমান এমপি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বর্তমান এমপি শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে বর্তমান এমপি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবারও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। তাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, ন্যাপ, ইসলামী ফ্রন্ট, এনএনপি, সুপ্রিম পার্টিসহ বিভিন্ন দলের ২৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। অনেক ভোটারের কাছে অপরিচিত এসব প্রার্থীর অনেকে প্রচারণায়ও যাননি। নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থী হয়ে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে কাগজকলমে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তাই এই চার আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চার প্রার্থীকে সম্পূর্ণ নির্ভার বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

জেলার ১৬টি আসনের বাকি ১২টিতে ঝুঁকিতে রয়েছেন ২৮ হেভিওয়েট প্রার্থী। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও চারজন প্রচারণায় বেশ সরব ছিলেন। এর মধ্যে নৌকার মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে আসনটির বর্তমান এমপি ও তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী নির্বাচনের দুই দিন আগে এসে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে আসনটিতে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। মূলত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তরমুজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মো. আবু তৈয়ব এবং সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমদের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিনের সঙ্গে। দুই প্রার্থীই এমপি হতে মরিয়া হওয়ায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে আসনটিতে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকার প্রার্থী এস এম আল মামুনের সঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমরানের। দুইজনই এমপি হতে মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থী এস এম আল মামুন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও সুষ্ঠু ভোট প্রত্যাশী ঈগলের প্রতীকের প্রার্থী মো. ইমরান। 

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী নাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. শাহজাহানের। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে ১৪ দলীয় জোটের জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম ও ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী চসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে বর্তমান এমপি নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ফুলকপি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম ও কেটলি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদের সঙ্গে নৌকার প্রার্থীর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দুইজন সাবেক যুবলীগ নেতার ভোট কাটাকাটিতে মনজুর আলমের কপাল খুলতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। 

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বর্তমান এমপি নৌকার প্রার্থী এম এ লতিফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী চসিকের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এবার নৌকা প্রতীক পেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি সামশুল হক চৌধুরীর। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বর্তমান এমপি নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারের। 

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসনে বর্তমান এমপি নৌকার প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর সঙ্গে লড়াই হবে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মোতালেবের। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বর্তমান এমপি নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। নানা সমীকরণে নৌকা ডুবিয়ে এমপি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ঈগল প্রতীকের প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিল্পপতি মুজিবুর রহমান ও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন।

ভোট সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি আসনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা মাঠে রয়েছে। ৮২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১৬টি আসনের দায়িত্বে কাজ করছেন। কোথাও কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলা করলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবার চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ভোটার ৬৩ লাখ ৯৬৪ জন। তাদের ভোটের জন্য রয়েছে ২ হাজার ২৩টি ভোটকেন্দ্রে ১৩ হাজার ৭৪১টি বুথ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা