× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রামের ১৬ আসন

নৌকা-স্বতন্ত্র প্রার্থী সংঘাতে চ্যালেঞ্জে ভোটার উপস্থিতি

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১২:০২ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে চারটি আসন ছাড়া বাকি ১২টি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আগামী রবিবার অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সরব উপস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, যেই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক হোক না কেন; যারাই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬টি আসনের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যেক আসনেই শেষ মুহূর্তে জমজমাট প্রচারণা চলছে। আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ফ্রন্ট, তৃণমূল বিএনপি, তরীকত ফেডারেশন, সুপ্রিম পার্টি, ন্যাপ, জাসদ, বিএনএফ, এনএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও অন্যান্য দলের মোট ১৫৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের বর্তমান এমপি ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বর্তমান এমপি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনের বর্তমান এমপি ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ নির্বাচনে পুরোটাই নির্ভার। এই চার আসনে নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে তেমন কোনো শক্তিশালী প্রার্থী নেই। তবে বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। 

বাকি ১২ আসনের মধ্যে ১০টি আসনে নৌকার প্রার্থী এবং দুজন জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে জোটের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ১২টি আসনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ও জোটের প্রার্থীর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে বেশ তৎপর রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তফসিল অনুযায়ী গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই এসব আসনে নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংঘাত লেগেই আছে। ইতোমধ্যে এই ১২টি আসনে পাল্টাপাল্টি অন্তত ১৫টি মামলা হয়েছে। যদিও এসব মামলায় দুই পক্ষেরই প্রায় সব আসামি জামিন নিয়ে স্ব-স্ব প্রার্থীদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের বর্তমান এমপি ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব উর রহমান এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন। প্রচারণা শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে এই আসনে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি মামলাও হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নৌকার প্রার্থী আমাদের কর্মী-সমর্থককে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এতে ভোটাররা শঙ্কায় রয়েছেন। আমি সুষ্ঠু ভোট চাই। নয়তো কেন্দ্রে ভোটার নিয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। 

একইভাবে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি ও তরমুজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মো. আবু তৈয়ব এবং সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমদের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই আসনে আবু তৈয়বের সঙ্গে নৌকার প্রার্থী সনির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। ইতোমধ্যে পাল্টাপাল্টি চারটি মামলাও হয়েছে। আসনটির ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন সুষ্ঠু ভোট চেয়ে নির্বাচন কমিশনে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নৌকার প্রার্থী এসএম আল মামুনের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমরানের সঙ্গে নির্বাচনে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে জোটের প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. শাহজাহানের। আসনটিতে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি সংঘাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে এবার লাঙ্গল প্রতীকের জোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠ। তার সঙ্গে নির্বাচনে এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম এবং ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরীর মধ্যে। এই আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা আভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। 

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ফুলকপি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম ও কেটলি প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদের সঙ্গে নৌকার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। 

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থী এমএ লতিফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কেটলি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী চসিকের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের। দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা টান টান উত্তেজনায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ব্যানার-পোস্টার ছেঁড়ারও অভিযোগ উঠেছে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। 

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এবার নৌকা এবং ঈগল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। আসনটিতে এবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসনটি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসন বেশ চাপে রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে ঈগল সমর্থকদের করা মামলায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ইতোমধ্যে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে আসনটির হেভিওয়েট দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই সুষ্ঠু ভোট প্রত্যাশা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। 

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসনের বর্তমান এমপি ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর সঙ্গে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মোতালেবের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। আসনটিতে প্রচারণা শুরুর পর থেকে দুই প্রার্থীর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলাও হয়েছে। নির্বাচনে আসনটিতে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঈগল প্রতীকের প্রার্থী এমএ মোতালেব নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। 

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিল্পপতি মুজিবুর রহমান এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ইতোমধ্যে নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে ঈগল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা হয়েছে। নৌকার কর্মী-সমর্থকরা ঈগলের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলাও হয়েছে। নির্বাচনে আসনটিতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা। 

এসব হামলা-মামলা এবং মারামারির আশঙ্কা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা দেখভালের জন্য ৮২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কাউকেই বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলা করলেই সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা