চট্টগ্রাম-১৬
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:৪৭ পিএম
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী এবার কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) এ বিষয়ে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থক আওয়াল হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এর আগে গতবছরের ৬ নভেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে পেটানোর হুমকি দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মুজিবুল হক। ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী; চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী।
গত মঙ্গলবার বাঁশখালীর ছনুয়া বাজারে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সমর্থনে এক পথসভায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেন। তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জানুয়ারি বাঁশখালীর ছনুয়া বাজারে নৌকার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সমর্থনে এক পথসভায় অংশ নেন ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী। সভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে থাকতে দেব না। ৫ তারিখের পর বুঝতে পারবি মুজিব চেয়ারম্যান কি জিনিস।’ মুজিবুল হকের এই বক্তব্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে জনমনে ভীতি সঞ্চার হয়েছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে, এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের পক্ষে বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে তার প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘চাম্বলের মুজিব চেয়ারম্যান ঈগল মার্কার এজেন্টদের নাকি ঢুকতে দেবে না। এই হুমকিতে আমরা শংকিত। মুজিব চেয়ারম্যান অন্যায় করতে করতে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তিনি মনে করেন তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তাই বারবার অন্যায় করে যাচ্ছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুজিবুর রহমানের সমর্থনকারী আওয়াল হোসেন ও রাহুল দাশ নয়ন।
মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চাম্বলের চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে আমাকে অবগত করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। উনার (মুজিবুল) বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাঁশখালী থানাকেও অবহিত করা হয়েছে। নির্বাচনে কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না।’
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের মুঠোফোনে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।
গত ৬ নভেম্বর মুজিবুল হক প্রকাশ্য জনসভায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে পেটানোর হুমকি দেন। সমাবেশে তার দেওয়া সাড়ে ১৮ মিনিটের বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে মুজিবুল হকের এই বক্তব্যকে ‘সহিংস বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
এমনকি গত ৩১ ডিসেম্বর মুজিবুল হক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগে আলাদা দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলায় মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে ৫৬ লাখ ৭১ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।