× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিলেট-৩ ভোটচিত্র

হাবিব-দুলাল সংঘাত বাড়ছে, শঙ্কায় ভোটাররা

কাওসার আহমদ, সিলেট

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:১৫ পিএম

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:২৪ পিএম

বাঁয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। প্রবা ফটো

বাঁয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। প্রবা ফটো

ভোটের মাঠে সিলেট-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত বেড়ে চলেছে। তারা নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, হুমকিসহ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছেন একে অপরের বিরুদ্ধে। এতে শঙ্কায় রয়েছেন ভোটাররা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুলালের নির্বাচনী জনসভায় হামলা হয়। এর জন্য হাবিবুর রহমানের লোকজনকে দায়ী করেছেন দুলাল।

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত আসনটি। ডা. দুলালের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সালেহ আহমদ বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের নয়াবাজারে ডা. দুলালের ট্রাক মার্কার সমর্থনে নির্বাচনী সভা চলাকালে নৌকার প্রার্থীর কর্মী ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মনা ও তার সহযোগীরা সভাস্থলে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং ডা. দুলালের কর্মীদের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারেন। ওই দিন রাতে ডা. দুলাল সিলেট জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগেও নৌকার প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে পোস্টার ছেঁড়াসহ নানা অভিযোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলাল। গত ২৬ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় সিলেট নগরীর নয়াসড়কে একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে লিখিত বক্তব্যে দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে আমার কর্মীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন নৌকার লোকজন। গত ২৩ ডিসেম্বর বালাগঞ্জের পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন থেকে বালাগঞ্জ সদরে আমার নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসার পথে গাড়ি থেকে কর্মীদের নামিয়ে দেয় নৌকার লোকজন। তারা আমার কর্মীদের আমার পক্ষে কাজ না করার জন্য হুমকি দেয়। একই দিন ফেঞ্চুগঞ্জের উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের পাঠানচক গ্রামে আমার ব্যানার ও পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি পাঠানচক গ্রামে ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে কোনো ধরনের প্রচারণা না চালাতে হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘিলাছড়া ইউনিয়নের মোকামের তল বাজারে আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে; আমার লোকজনকে হুমকি দেয়। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও নৌকার প্রার্থীর বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত মীর মতিউর রহমান জালালপুরে আমার কর্মীদের প্রকাশ্যে হুমকিধমকি দিচ্ছে।’ 

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে নিজের অবস্থান জানান দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। তিনি ট্রাক্টর প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মারা গেলে তিনি উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। এবারও দল থেকে হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নের আগপর্যন্ত এই দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রকাশ্যে তেমন বিরোধ ছিল না। সম্প্রতি নির্বাচন ঘিরে তাদের বিরোধ জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। উভয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বিরোধটি ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টার ছেঁড়াসহ নির্বাচনী প্রচারণায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য একে অপরকে দায়ী করছেন তারা।

এ বিষয়ে সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এসব মিথ্যা অভিযোগ। বরং আমার নির্বাচনী প্রচারণা বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমি কিন্তু প্রতিবাদ করছি না। আমার কর্মীদের শান্ত থাকার জন্য বলেছি।’ হাবিব আরও বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি তিনি (দুলাল) এলাকায় নতুন এসেছেন পরিচিত হওয়ার জন্য। তাই আলোচনায় আসতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।’

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলছেন, ‘হামলার ঘটনায় আমার কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ ভোটাররা ভীত হয়ে পড়েছেন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মীরা হিংসাত্মক আচরণ শুরু করেছেন। তারা আমার সভায় হামলাও করে বসলেন।’ 

অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফেঞ্চুগঞ্জের ইউএনও ফারজানা প্রিয়াংকা প্রতিদিনের বংলাদেশকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিনিধি একটি অভিযোগ নিয়ে আসেন। অভিযোগটি সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন আচরণবিধির কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’

এই দুই প্রার্থী ছাড়াও সিলেট-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. মইনুল ইসলাম (মিনার), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আফরোজ (আম)।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা