নির্বাচনী জনসভায় রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:১৭ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৩২ পিএম
রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মুড়াপাড়া কলেজমাঠে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্বাচনী জনসভায় ঢল নামে শত শত নেতাকর্মীর। প্রবা ফটো
মাফিয়া ভূমিদস্যু লুটেপুটে খেতে গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীরপ্রতীক) বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রূপগঞ্জকে গিলে খেতে ওই ভূমিদস্যু শাহজাহানকে পুতুল এমপি বানাতে চায়। এখন শাহজাহানকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। ওই ভূমিদস্যু জানে গাজী সাহেব এমপি হলে তার অবস্থা আর থাকবে না। তাই শাহজাহানকে পুতুল এমপি বানাতে মাফিয়া ভূমিদস্যু উঠেপড়ে লেগেছে।’
বুধবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মুড়াপাড়া কলেজমাঠে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রূপগঞ্জ ছেড়ে যাব না। রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখানেই পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকবেন। ওই ভূমিদস্যুসহ যারা লুটেপুটে খেতে চাচ্ছে এবং অপপ্রচার ও নানা ধরনের চক্রান্ত করছে, তাদের স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। বঙ্গবন্ধুর মার্কা নৌকা, শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা, গাজী সাহেবের মার্কা নৌকা ও জনগণের মার্কা নৌকা।’
৭ জানুয়ারি দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যালটের মাধ্যমে, ভোটের মাধ্যমে আমরা নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেব। অতীতে যেভাবে রূপগঞ্জের মানুষ গাজী সাহেবকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন, এবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আরও ব্যাপক উন্নয়ন করার সুযোগ করে দেবেন।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌকার মাঝি গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘আপনারা পুতুল এমপি বানাবেন, না মনের এমপি বানাবেন? আপনারা গুরু দেখে ভোট দেবেন। আমার গুরু হলো জননেত্রী শেখ হাসিনা। আর শেখ হাসিনার মার্কা নৌকা। আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কেটলি প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহানের গুরু এক ভূমিদস্যু। আর ওই ভূমিদস্যু পুতুল এমপি বানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। রূপগঞ্জের জনগণ কখনোই পুতুল এমপি বানাবে না। তাদের এ স্বপ্ন কখনোই জনগণ পূরণ হতে দেবে না।’

ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে ভোটারদের সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা যে নির্বাচন করতে যাচ্ছি, সে নির্বাচনে আপনারা যদি সোচ্চার না থাকেন তাহলে বিপদ আছে। ওই ভূমিদস্যুরা আপনাদের জমি দখল করতে চায়। কারও বাড়ি দখল করবে, কারও জমি দখল করবে এবং কারও বাড়িতে সাইনবোর্ড লাগাবে। তখন আপনাদের বলার কিছু থাকবে না। প্রতিবাদ করলে মামলা হামলার শিকার হবেন। আপনাদের এখনোই সময় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে ওই ভূমিদস্যু চক্র। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিন। ৭ তারিখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জবাব দেবেন। সেই জবাবের পর আপনারা আনন্দ ও বিজয় মিছিল করবেন।’
রূপগঞ্জবাসীর উদ্দেশে গোলাম দস্তগীর গাজী আরও বলেন, ‘বিগত ১৫টি বছর আপনাদের সময় দিয়েছি। সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে চার দিন এলাকায় থেকে আপনাদের সময় দিয়েছি। রূপগঞ্জের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, ভুলতা ফ্লাইওভার নির্মাণ, গাজী সেতু, পূর্বাচলসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বিভিন্নভাবে রূপগঞ্জে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছি। সবকিছুই করেছি আপনাদের জন্য। আগামী দিনে আমাকে আবারও বিজয়ী করলে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আরও চারগুণ উন্নয়ন করব।’
রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়ামহল্লা থেকে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক দুপুরে ঢাকঢোল পিটিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভায় যোগ দেন। বেলা ৩টার দিকে জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
দলীয় নেতাকর্মীদের নৌকার প্রার্থী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জে আসবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবেন।’
রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন—তারাব পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী মিসেস হাসিনা গাজী, রংধনু গ্রুপের পরিচালক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নিলা, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান তুহিন, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া, তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, জেলা পরিষদের সদস্য আনসার আলী, শিলা রানী পাল, আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, এইচএম ইমরান, যুবলীগ নেতা মাঞ্জেরে আলম টুটুল, আবু দাউদ মোল্লা প্রমুখ।