রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:০১ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৩৭ পিএম
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বঘোষিত জনসভার দিন একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল। এ নিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর মাঠে বুধবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন।
মোহাম্মদ আলী কামাল একই দিন দুপুর ২টায় রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটোরিয়ামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। সভাপতির ডাকা পৃথক ওই কর্মসূচিতে ৪টি থানা ও ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মোহাম্মদ আলী কামাল স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাঁচি প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক।
মঙ্গলবার মহানগর আওয়ামী লীগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা পাঠিয়ে মোহাম্মদ আলী কামালের পক্ষে এই কর্মসূচির আমন্ত্রণ জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশার পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান অনুষ্ঠান বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামের পরিরর্তে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ২টায় রাজপাড়া ও শাহ মখদুম থানা, বেলা ৩টায় বোয়ালিয়া ও মতিহার থানার পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পোলিং এজেন্টদের উক্ত প্রশিক্ষণে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দকে অনুরোধ জানানো হলো। বার্তায় মোহাম্মদ আলী কামালকে কাঁচি প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুল ওয়াদুদ জানান, রাজশাহীর ৬টি নির্বাচনী আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং তাদের পক্ষে ভোট চাইবেন। এই কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারণ করা আছে এবং দলের স্থনীয় সকল ইউনিটের নেতাদের অবগত করা হয়েছে।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, ‘আমি তো নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট করছি না। এবার আমাদের প্রতীক কাঁচি। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক।’
প্রধানমন্ত্রীর জনসভার দিন আওয়ামী লীগের সভাপতির পাল্টা এমন কর্মসূচির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কি দেউলিয়া দল? হাজার হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের আছে।’ তবে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতির এই অবস্থানের উল্টো অবস্থান নিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতির কর্মসূচির দিন অন্য কোনো কর্মসূচি থাকতে পারে না। তা-ও আবার নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে। দলের মধ্যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সুদূরপ্রসারী বিভাজন তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত কতিপয় ব্যক্তির ইন্ধনে কিছু নেতাকর্মী বিভ্রান্ত হচ্ছেন। শুধু নির্বাচন নয়, আগামীতে তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে বলেই আমার মনে হয়।’