× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জেলে ছদ্মবেশে বাড়ি টার্গেট, অতঃপর ডাকাতি

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৭:৫১ পিএম

ডাকাত চক্রের মূল হোতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রবা ফটো

ডাকাত চক্রের মূল হোতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রবা ফটো

কেরানীগঞ্জে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি বাড়িতে একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তাতে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। তবে ডাকাত চক্ররে চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। কেননা তারা অধিকাংশই ছদ্মবেশে ডাকাতি করত। পুলিশকে ফাঁকি দিতে অভিনব কায়দায় জেলে সাজতো তারা। আগে জেলে সেজে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাড়ি চিহ্নিত করত চক্রটি। পরে সুবিধামতো ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করত। অবশেষে এই ডাকাত চক্রের মূল হোতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইলিয়াস ওরফে ‘মাস্টার’ (৪৮), শাহিন ওরফে ভাগিনা (২৮), সোহেল (৪০), বাবুল (২৪), আসাদ (৪৩), রাশেদুল ওরফে বিটু (৩০), ওহাব ওরফে নানা (৬২), সামাদ (৫০), দীপু (২০) এবং মকবুল ওরফে মঙ্গল (২৭)।

ঘটনার বর্ণনা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে দুর্ধর্ষ একদল ডাকাত কেরাণীগঞ্জের বলসুতা ও অভ্রখোলা এবং দক্ষিণ কেরাণীঞ্জের বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি বাড়িতে সিরিজ ডাকাতি করে আসছিল। সশস্ত্র এই ডাকাতদল গভীর রাতে বাড়ির গ্রিল কেটে ঢুকে পড়ে এবং অস্ত্রের মুখে সকলকে হাত পা বেঁধে জিম্মি করে ফেলে। তারপর ডাকাতদলের অন্য সদস্যরা মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির আলমারি, শো-কেসসহ সবকিছু ভেঙে মূল্যবান স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দামি কাপড়চোপড় এমনকি টেলিভিশন পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়।’

এদিকে ডাকাতি শেষে বাড়ির সবার মোবাইল ফোনও কেড়ে নিত ডাকাত দল। তবে সেগুলো তারা বাইরে কোথাও ফেলে যেত। এর আগে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের বাধার সম্মুখীন হলে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। দুর্ধর্ষ এইসব ডাকাতিতে নেতৃত্ব দেয় ডাকাত দলের সর্দার, যাকে ডাকাত দলের সদস্যরা ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করে। ভুক্তভোগীরা জানায়, ডাকাত দলের সদস্যরা যে যা খুঁজে পায় (স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা) সব তাদের ‘মাস্টারের’ কাছে নিয়ে জমা দেয়।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে টিম গঠন করে একটি তদন্তদল ডাকাত ‘মাস্টার’ গ্রুপকে গ্রেফতারের জন্য কাজ শুরু করে। তদন্তদল প্রতিটি ডাকাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এরপর ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেটি বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় যে, ডাকাত সর্দার এর নেতৃত্বে ডাকাতদল সবগুলো ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এক পর্যায়ে তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ডাকাতদলের সদস্যরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির ঘটনাগুলোতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তারা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য মাছ ধরার জাল সঙ্গে রাখে এবং কোথাও পুলিশ টহল টিম বা চেকপোস্টে ধরা পড়লে পেশায় জেলে এবং মাছ ধরতে যাচ্ছে বলে জানাতো। গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ডাকাত দলের পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও ডাকাতির অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা