শামসুল আলম, পাবনা ও রফিকুল ইসলাম বেড়া-সাঁথিয়া
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:৩৬ পিএম
লিফলেট দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন পাবনা-২ আসনের প্রার্থী ডলি সায়ন্তনী। রবিবার দুপুরে বেড়া উপজেলার পুরান ভারাঙ্গা এলাকায়। প্রবা ফটো
শাড়ি পরে মধ্যবয়সি নারী কখনও ছুটছেন গ্রামের মেঠোপথে, কখনও বা ব্যস্ততম হাট-বাজারে, আবার কখনও গৃহস্থবাড়ির আঙিনায়। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই তৈরি হচ্ছে সংগীতের আবহ। গানে গানে সবার কাছে সবিনয়ে ভোটপ্রার্থনা করছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) মনোনয়নে ‘নোঙর’ প্রতীকে পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। জনপ্রিয় এই শিল্পীর নাম ডলি সায়ন্তনী।
‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা’ গানের মাধ্যমে খ্যাতি পাওয়া ডলির গানই যেন তার প্রচারের প্রধান অস্ত্র। ভোটের মাঠে প্রার্থীর এমন প্রচার ছাড়াচ্ছে মুগ্ধতাও।
গত রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার পুরান ভারাঙ্গা এলাকায় গাড়িবহর নিয়ে পৌঁছান ডলি। গাড়ি থেকে নামতেই তাকে ঘিরে ধরেন ভোটাররা। ভোট পেতে নানা আশ্বাস দিতে দেখা যায় তাকে। তবে গানের পাখির কাছ থেকে শুধু আশ্বাসে মন ভরে না তাদের। সবারই আবদার গাইতে হবে শিল্পীর জনপ্রিয় গান। হাসিমুখে সেই চাওয়া পূরণ করতে থাকেন ডলি। একে একে গান ‘এ যে বিষমও পিরিতি পিরিতি সই’, ‘কোন বা পথে নিতাই গঞ্জে যাই’, ‘গানের সুরে মন মাতাইয়া’। মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতা গান শেষে সেলফিবন্দি করতে ভোলেন না শিল্পীকে।
জুয়েল আসিফ নামের এক ভোটার বলেন, ‘এতদিন তার গান শুনেছি টিভিতে বা মোবাইলে। আজকে শুনলাম তার নিজের কণ্ঠে সরাসরি। অনুভূতিই আলাদা। তার গানগুলো আমার বেশ প্রিয়। আমার বাড়ি এখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরে। যখন শুনলাম এখানে ডলি সায়ন্তনী আসছে, তাই ছুটে এলাম। একটা ছবিও তুলেছি। প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে এভাবে গান শুনব এবং ছবি তুলব ভাবতেও পারিনি। আমি তাকেই ভোট দিব বলে মনে মনে চিন্তা করেছি।’
এতদিন গায়িকা হিসেবে পরিচিতি পেলেও এখন নিজেকে অন্যভাবে তুলে ধরতে পেরে অভিভূত ডলিও। তিনি বলেন, আমি এতদিন গান গেয়ে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। কিন্তু এভাবে ভোটের মাঠে এত ভালোবাসা পাব কখনও ভাবিনি। আমি এই এলাকার মেয়ে। তারা যেভাবে আমাকে ভালোবাসো দিচ্ছেন তাতে আমি আবেগ আপ্লুত। আমাকে ভালোবাসে বলে তারা গানের আবদার করছেন। এতে আমি নিজেও খুব আনন্দ পাচ্ছি। আমি এই আমিনপুর ও সুজানগরবাসী কি মেসেজ দিতে চাচ্ছি তা এই গানের মাধ্যমে প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, সাধারণ ভোটাররা যেভাবে আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন তাতে আমি নিশ্চিত আমি ভোটে জয়ী হব। আমি বিজয়ী হলে মানুষের এই ভালোবাসার মূল্যায়ন করব। তারা যেভাবে আমাকে আপন করে নিয়েছে এজন্য আমি তাদের সুখে-দুঃখে থাকতে পারি। আমি জয়ী হলে আরেকটি পদ্মা সেতু নির্মাণে ভূমিকা রাখব। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করব।
নির্বাচনী প্রচারে কোনো বাধার মুখে পড়ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে কিছুটা বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম। এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় সেটা নিরসন হয়েছে। আমার কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল, এখন আর ছিঁড়ছে না।’
পাবনার সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২১৩ জন। মোট সাতজন প্রার্থী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আহমেদ ফিরোজ কবির এবং ডলি সায়ন্তনীর মধ্যে। এ ছাড়া এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (আম) আজিজুল হক, তৃণমূল বিএনপির (সোনালী আঁশ) আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মেহেদী হাসান রুবেল, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের (ফুলের মালা) মোমিনুল ইসলাম এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (মশাল) শেখ আনিসুজ্জামান।