× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পটুয়াখালী-২

এবারও অপ্রতিরোধ্য ফিরোজ

এম.এ হান্নান বাউফল (পটুয়াখালী)

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:৪৮ পিএম

এবারও অপ্রতিরোধ্য ফিরোজ

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটি ধরে রেখেছেন সাবেক চিফ হুইপ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম ফিরোজ। ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯ বার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তিনি। এর মধ্যে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দশমবারের মতো দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। 

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর ফিরোজ আধিপত্য ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ সময়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সাংগঠনিক বলয়। ২০১২ সালে পৌর নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া পান্নুকে হারিয়ে জিয়াউল হক মেয়র নির্বাচিত হন। মূলত তখন থেকে এমপি এবং মেয়রের মধ্যে দলীয় বিরোধ দেখা দেয়। গত বছর থেকে এমপি অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদারের সঙ্গেও বিরোধ দেখা দেয়। তিন পক্ষের দ্বন্দ্বে ঘটে হতাহতের ঘটনাও। যার রেশ পড়ে জাতীয় নির্বাচনে।

এ আসনে ফিরোজসহ ১৩ জন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল নৗকার কাণ্ডারি হিসেবে আ স ম ফিরোজকেই বেছে নেয়। ফলে মনোনয়নবঞ্চিত হাসিব আলমকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে মাঠে নামেন ফিরোজবিরোধী জোট। তবে হাসিব আলম নৌকাকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এতে বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে ফিরোজবিরোধী শিবিরে।

পৌর মেয়র জিয়াউল হক ও তার অনুসারীরা নির্বাচনের মাঠে না থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান নৌকাবিরোধী অবস্থান নেন। ফিরোজ অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল খানসহ পাঁচ-ছয়জন নৌকার সমর্থকেরও ওপর হামলা চালায়। হামলার দুই দিনের মাথায় নাটকীয়ভাবে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ শুরু করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। 

ফিরোজ অনুসারী একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, তিনি (আ স ম ফিরোজ) একজন স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপ্রিয় নেতা। এটাই তার কারিশমা। এ কারিশমায় তিনি বারবার দলীয় মনোনয়ন পান এবং এমপি নির্বাচিত হন। 

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নৌকার জয়ে শতভাগ আশাবাদী আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমন্বয়ে ১১৪টি কেন্দ্রে তিনটি করে ৪৩২টি উঠান বৈঠক, প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রার্থীর নির্বাচনী পথসভা এবং তরুণ ভোটাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের সমন্বয়ে প্রতি ইউনিয়নে পথসভা করা হচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এ গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা চলছে, যা চলবে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত।

প্রচার-প্রচারণার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন নৌকার প্রধান এজেন্ট ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য রায়হান শাকিব। তিনি জানান, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ছয়টি করে দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিরতণ করে ভোট চাইছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এ গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা চলছে, যা চলবে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত।

রায়হান শাকিব বলেন, ‘দেশি এবং বিদেশি নানা মহল থেকে নির্বাচন বানচলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উপস্থিতি কমাতে ভোটারদের বিভিন্ন কৌশলে নিরুৎসাহিত করছে। যাতে আন্তর্জাতিক মহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সেসব ষড়যন্ত্রের কথা চিন্তা করে আমরা ভোটের মাঠে কাজ করছি। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছি। আশা করি ৭ তারিখের নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।’ 

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোসারেফ হোসেন বলেন, ‘ফিরোজ একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতা। ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। ওই বছরই তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও ভোটের মাঠের জনপ্রিয়তা বিবেচনায় এবার নিয়ে দল দশমবারে মতো মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে সাতবারই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।’

এ আসনে আ স ম ফিরোজ ছাড়া আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী মো. মাহবুব আলমকে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। তবে জাতীয় পার্টি মনোনীত মাহসিন হাওলাদার ও বিএনএফের জুবায়ের রাসেল মাঠে আছেন। উপজেলাজুড়ে তাদের নির্বাচনি পোস্টার, মাইক প্রচার ও গণসংযোগ চলছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা