বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৪:১৪ পিএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:০২ পিএম
ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। প্রবা ফটো
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ইবলিস ও শয়তান বলে মন্তব্য করায় ফের বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ শোকজ নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান বরগুনার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আহমদ সাঈদ কারণ দর্শানোর এ নোটিস দেন।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রচারণা সভায় ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমালোচনা করে ইবলিস, ইডিয়েট ও মোনাফেক বলে মন্তব্য করেন। এ ছাড়াও ‘উন্নয়ন হয় নাই এই যে কথাটা বলে এটি মুনাফেকি কথা, ইবলিসরা এভাবে কথা বলে, আমি দুঃখিত এভাবে কথা বলায়। ইবলিসটা আল্লাহর ভাষা, আর আমাদের ভাষা হলো শয়তান, আমি আল্লাহর ভাষায় ইবলিস বলব। এই ইবলিসদের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। এটা কেমন কথা যে উন্নয়ন হয় নাই। আমরা কি ভাইস্যা আইছি না কি। ভোট একেবারে চাইলেই দিয়ে দেবে। এই এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে অনেক রাস্তাঘাট, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হয়েছে। সাব রেজিস্ট্রি অফিসও হয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাটের জন্য সাড়ে সাতশ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। কে বলেছে উন্নয়ন হয়নি। যারা বলে উন্নয়ন হয়নি তারা ইবলিস শয়তান এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, এমন মন্তব্য করায় বরগুনা-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু নির্বাচনী আচরণবিধি ২০০৮ এর ১১(ক) লঙ্ঘন করেছেন। এ অবস্থায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে প্রার্থী নিজে বা নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে লিখিত জবাব দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নৌকার প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কারী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘প্রার্থীর পক্ষে আমি যথাসময়ে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির কাছে লিখিত জবাব দাখিল করব।’
এর আগেও প্রচারণায় ও বক্তব্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় গত ১১ ডিসেম্বরও শম্ভুসহ নয়জন আওয়ামী লীগ নেতাকে শোকজ করেছিল নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি। জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় ১৬ ডিসেম্বর শম্ভুসহ পাঁচ নেতাকে জরিমানার সুপারিশ করে ইসিতে প্রতিবেদন পাঠায় কমিটি। ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে তলব করা হয় এবং ২৮ ডিসেম্বর ইসিতে উপস্থিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে অভিযোগ থেকে নিস্তার পান ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।