কাওছার আহমদ, সিলেট
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:৩১ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:৩৫ পিএম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন (বামে) ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ (ডানে)। প্রবা ফটো
সংসদ নির্বাচনে সিলেটের দুই আসনে অংশগ্রহণকারী সরকারি দলের দুই মন্ত্রী ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন অন্য ছয় আসনে নৌকার প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এসব আসনে। মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট-১ ও সিলেট-৪ ছাড়া অন্যগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপটে অনেকটাই ম্লান সরকারি দলের প্রার্থীরা। এসব আসনে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য যে চারটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন, তাদের একদিকে তেমন কোনো তৎপরতা নেই, অন্যদিকে তারা অনেকটাই অপরিচিত। ফলে এসব আসনের নির্বাচন অনেকটা একতরফাই হবে বলে মনে করছেন সিলেটের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, এ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার ২৭ লাখ ১৫ হাজার ৩৩১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৫ এবং নারী ১৩ লাখ ২২ হাজার ৯২৬। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১০ জন।
সিলেট-১ (নগর-সদর) আসন
দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সিলেট-১ মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছে, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। একই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও। ফলে অনেকেই বলে থাকেন, সিলেট-১ আসনে যারা জয়ী হয়, তারাই সরকার গঠন করে।
এবারের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে এ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন তিনি। এখানে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো তেমন কোনো শক্তিশালী প্রার্থী নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগের তিনবারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন (সিরাজ) এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ‘হঠাৎ’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আলোচনা থামিয়ে দিয়েছেন মিসবাহ নিজেই। এখন মোমেন অনেকটা খালি মাঠেই গোল দেবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, গত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না আব্দুল মোমেন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় তখন দলের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এবার মিসবাহ প্রার্থী হওয়ায় অনেকেই তাই আড়ালে মোমেনের বিরুদ্ধে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু পরে মিসবাহ ‘সমঝোতা’ করে ফেলেছেন।
তবে সমঝোতা করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি বলে দাবি করেছেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে ‘মানসিক যন্ত্রণায়’ ভুগছিলাম। সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। এখন নৌকার বিপক্ষে প্রচার চালাতে হবে, বিষয়টি আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল। সে কারণেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নৌকার পক্ষে প্রচারে নেমেছি।’
এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক (মিনার), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইউসুফ আহমদ (আম), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ সোহেল আহমদ চৌধুরী (ডাব) ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আবদুল বাছিত (ছড়ি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ প্রচারে তেমন সক্রিয় নয়।
এ আসনে ভোটার ৬ লাখ ৩৪ হাজার ২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৩৩ এবং নারী ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮১ জন।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন
এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। গত নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এ আসনটি ছেড়ে দেয়। এ আসনে দশম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী (লাঙ্গল)। একাদশ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি মোকব্বির খান (উদীয়মান সূর্য)। এবারও দলের মনোনয়ন নিয়ে তারা দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান ও সাবেক এই তিন সংসদ সদস্যর সঙ্গে ভোটযুদ্ধে আরও রয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের একাধিকবারের চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র মুহিবুর রহমান। অনেকের মতে, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে পৌর মেয়রের প্রভাব রয়েছে। তাই ভোটের মাঠে এই চার প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভানা রয়েছে।
এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ তৃণমূল বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুর রব (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. জহির (ডাব) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মনোয়ার হোসাইন (আম)।
আসনটির ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭২৯। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৪৭ এবং নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮২ জন।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ)
এ আসনে বেশ আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএমএ’র মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। তিনি আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য। তবে দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রতীক ট্রাক্টর। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। কোভিড-১৯ ভাইরাসজনিত মহামারির সময় এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যু ঘটে। তখন তিনি উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। এবারও দল থেকে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু হাবিবুর রহমানের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলাল। এ আসনে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াইয়ে আছেন তারা দুজন। দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারা নৌকার পক্ষে কাজ করলেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বড় একটি অংশ কাজ করছে বিপক্ষের প্রার্থীর সঙ্গে। তারা নৌকা ছেড়ে ট্রাকের বিজয় নিয়ে আসতে মরিয়া। এ আসনে টানা তিনবারের দলীয় এমপি মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরাও নৌকা ছেড়ে ট্রাকে উঠেছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. দুলালের পক্ষে মাঠে নেমেছেন এই আসনের একাধিকবারের সাবেক এমপি শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত)। ডা. দুলালকে সমর্থন করে গণমাধ্যমেও বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শফি আহমদ চৌধুরী।
জানা গেছে, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ট্রাক থেকে নামিয়ে নৌকায় তুলতে মাঠে নেমেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তারপরও নৌকার শেষ রক্ষা হয় কিনা বলা যাচ্ছে না। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেনÑ জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্যজোটের মো. মইনুল ইসলাম (মিনার), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনোয়ার হোসেন আফরোজ (আম) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম (ঈগল)।
এ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৪২ এবং নারী ১ লাখ ৯০ হাজার ২৬৯ জন।
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ)
এ আসনে ৬ বারের সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। এবারও তিনি নৌকার প্রার্থী। তবে তার বিপরীতে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীও হয়নি। অন্য প্রার্থীরাও তেমন শক্ত অবস্থানে নেই বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বপ্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইমরান আহমদ। এরপর পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নাজিম কামরান চৌধুরীকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে মোট ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই মন্ত্রী ।
এ আসনে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মো. নাজিম উদ্দিন কামরান (মিনার) এবং তৃণমূল বিএনপির মো. আবুল হোসেন (সোনালী আঁশ)।
এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ১২১। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ১০৭ এবং নারী ২ লাখ ২৯ হাজার ১৩। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার রয়েছে। এখানে কোম্পানীগঞ্জের নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১৮।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ)
এ আসনে নৌকাকে পরাজিত করতে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ ‘তলে তলে’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর মহাসচিব মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরীর (কেটলি) পক্ষে কাজ করছেন। পদধারী কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আহমদ আল কবিরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে এ আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ।
এদিকে গত ৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ আসনের ভোটের চিত্র অনেকটা পাল্টে গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝেও এর প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, হুছামুদ্দীনকে নিয়ে দলের মধ্যে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া ‘ফুলতলী হুজুরের’ ছেলে হিসেবে সাধারণ ভোটারের কাছে হুছামুদ্দীনের অনেকটা গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। এ অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আহমদ আল কবির (ট্রাক) স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নৌকার বিজয় আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেনÑ জাতীয় পার্টির শাব্বীর আহমদ (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির কুতুব উদ্দীন আহমদ শিকদার (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. বদরুল আলম (ডাব) ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. খায়রুল ইসলাম (হাতপাঞ্জা)।
এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭ এবং নারী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪২ জন। এখানে কানাইঘাটের নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫। জকিগঞ্জের নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার ৯৬ হাজার ৬৬৩ জন।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসন
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এখানে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর সঙ্গে সমঝোতার বলি তিনি। গত শুক্রবার দিনভর মানুষের মুখে মুখে এই আলোচনা ছিল। এদিকে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ শমসের মবিনের পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। গত শুক্রবার রাত ৮টায় তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষে গোলাপগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী ঘরানার বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে প্রচারে নেমে পড়ায় গুঞ্জন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তারা গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের একটি অভিজাত সেন্টারে সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষে একটি সভা করেছেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রুকন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হকের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শমসের মবিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেনÑ গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশেদ আলম চৌধুরী রিপন, আমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ হাসিন আহমদ মিন্টু, সদস্য ওজিউর রহমান ছানা, আব্দুল হান্নান, গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহেল আহমদ, পৌর কাউন্সিলর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুহিন আহমদ খান, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ জিলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকমল আলী, শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুল মন্নান প্রমুখ।
এ আসনে নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী ঈগল প্রতীকের সরওয়ার হোসেনসহ ৬ জন প্রার্থী। তবে ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন কেবল নাহিদ, সারোয়ার ও শমসের।
এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৯ জন। এর মধ্যে বিয়ানীবাজার পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৫ হাজার ৮৩ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫। গোলাপগঞ্জে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯২৬ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৮৪ জন। এখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৭১১ জন।