প্রবা প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:২১ পিএম
প্রতীকী ছবি
বরিশালে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় দুই পক্ষের মারামারির সময় মারা যাওয়া কৃষক লীগ নেতার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী জানিয়েছেন।
মারা যাওয়া কৃষক লীগ নেতার নাম সিরাজ সিকদার। তিনি বরিশালের হিজলা উপজেলার উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কোব্বাত সিকদারের ছেলে। সিরাজ সিকদার উপজেলা গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক লীগের সভাপতি।
তিনি জানান, সিরাজ সিকদারের মরদেহ ময়নতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মিরাজ মোল্লা বলেন, মৃতের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহৃ নেই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
হিজলা উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জুর মোর্শেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সিরাজ দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থীতা বাতিল হওয়া বরিশাল-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মী আহম্মেদের অনুসারী। আমরা আগে থেকে জনসভাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। পঙ্কজ নাথের অনুসারীরা জনসভায় প্রবেশ করে মারামারি শুরু করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তখন নিচে পড়ে গিয়ে অসুস্থতা হয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সময় জনসভা মাঠে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ড. শাম্মী বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে তার অনুসারীরা শ্লোগান শুরু করে। ওই সময় বরিশাল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের অনুসারীরা জনসভা মাঠে প্রবেশ করে। ড. শাম্মীর অনুসারীদের শ্লোগান শুনে পঙ্কজ অনুসারীরা হুড়োহুড়ি শুরু করে। তখন ড. শাম্মী অনুসারীরা বোতল ছুড়ে ও ধাওয়া দেয়। বোতলের আঘাতে পঙ্কজ অনুসারী কয়েকজন আহত হয়েছে। হুড়োহুড়ির সময় পড়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা গেছে বলে শুনেছি।’
এদিকে জনসভায় পঙ্কজ নাথের কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে হিজলায় বিক্ষোভ হয়েছে। হিজলা উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে হিজলা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। উপজেলার সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বাজার প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে এসে শেষ করা হয়েছে। মিছিলে উপজেলার সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স্বপন চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী লিয়াকত, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলাইমান শান্তসহ ইউপি সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।