হুমায়ূন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৫৩ এএম
কুয়াকাটা ইলিশপার্কে সন্ধ্যা নামলেই হাজারো চড়ুই পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে। প্রবা ফটো
কুয়াকাটা ইলিশপার্কে বকুল গাছসহ বেশ কিছু ফুল-ফল গাছে আসর জমিয়ে বসে আছে শত শত পাখি। তারা কখনও আপন খেয়ালে উড়াল দিচ্ছে আকাশে, কেউ আবার পালকে মুখ গুঁজে পোহায় মিষ্টি রোদ। সবুজ গাছের ডালে আশ্রয় নিতে প্রতিদিনই জড়ো হয় চড়ুই পাখি। ভোর হতেই খাবারের সন্ধানে বের হয়, সন্ধ্যা নামলেই ফেরে আপন নীড়ে।
সারা দিন এসব পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক। পার্কটি বর্তমানে পাখির রাজ্য। ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখি। যেন মিলন মেলা। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকে গোটা এলাকা। প্রতিদিন বিকাল হলেই হাজার হাজার চড়ুই পাখি দলবদ্ধ হয়ে মুগ্ধতা ছড়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটক ও স্থানীয়দের বিনোদনের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে ২০১৫ সালে নির্মিত হয় বিনোদন স্পট ইলিশ পার্ক। পার্কের ভেতরেই রোপণ করা হয় বকুল গাছসহ বেশ কিছু ফুল ও ফলের গাছ। গত দুই বছর ধরে এসব গাছ চড়ুই পাখির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। গাছের ডালে শত শত চড়ুই পাখিতে চোখ আটকে যায়। পাখিদের কলরবে সারা দিনের ক্লান্তি নিমিষেই ভুলে যান পর্যটক ও স্থানীয়রা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শত শত চড়ুই পাখির কলরবে থমকে যান পথচারীরা। প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যায় গাছের ডালে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর থেকে দলবেঁধে ছুটে আসে হাজার হাজার চড়ুই পাখি। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তাদের কিচিরমিচিরে মুখর থাকে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক এলাকা। বকুল গাছÑ ফুল ও ফলের গাছের পাতার চেয়ে যেন চড়ুই পাখি বেশি। একেকটি ডালে বসে আছে শত শত পাখি। বকুল গাছে জায়গা না হওয়ায় পাশের ফুল ও ফলের গাছেও বসে আছে শত শত পাখি। পাখিরা এক ডাল থেকে আরেক ডালে উড়ে বেড়াচ্ছে, কিচিরমিচির করছে। যেন পরস্পরে খুনসুটিতে মেতে উঠেছে। এমন দৃশ্য দেখতে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ভিড় করেন অনেকে। কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলছেন। পাখিরা যাতে এখান থেকে চলে না যায় সেজন্য পরিবেশ সৃষ্টিসহ সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখছেন কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক কর্তৃপক্ষ।
পর্যটক হায়দার বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় এসে ইলিশ পার্কের কটেজের ওঠেন। তিনি বলেন, এখানকার পরিবেশ অন্যদের থেকে আলাদা। সবচেয়ে দারুণ লেগেছে পাখির কিচিরমিচির শব্দ। সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে।
অপর এক পর্যটক আখতার হাসান জানান, পার্কের ভেতরের গাছগুলোতে ঝাড়বাতি দেওয়া আছে। তার মধ্যে চড়ুই পাখি একে অপরের সঙ্গে খুনসুটি করেছেÑ এ দৃশ্য ভোলার নয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা শাহআলম মিয়া জানান, একসময় কুয়াকাটায় প্রচুর গাছ ছিল। অনেক পাখির বিচরণ ছিল। কিন্তু এখন তেমন দেখা না গেলেও বিকালে ইলিশ পার্কে প্রচুর চড়ুই পাখি দেখা যায়। সকালে কিংবা বিকালে ইলিশ পার্কের পাশ দিয়ে হাঁটলে পাখির ডাক শুনতে দারুণ লাগে।
কুয়াকাটা ইলিশ পার্কের স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ইলিশ পার্কটি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়া। এখানে যেসব পর্যটক আসেন তারা এই পরিবেশটাকে পছন্দ করেন। পাখির কিচিরমিচির শব্দ ও এই পরিবেশ না দেখলে বর্ণনা করা যাবে না। এখানে যেসব পর্যটক আসেন তারা এমন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন।