সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:১০ এএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:৪৩ পিএম
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ফাইল ছবি
জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ যে ২৬টি আসনে ছাড় দিয়েছে তার মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভোটের দিক থেকে এটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হলেও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আসনটি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেও দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ চুন্নুবিরোধীরা লাঙ্গলের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা না থাকায় তারা প্রকাশ্যে চুন্নুর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরানার মেজর (অব.) মো. নাসিমুল হক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক হায়দার, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ব্যারিস্টার মো. গোলাম কবির ভূঞা অন্যতম।
সরেজমিনে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত সময়ে মুজিবুল হক চুন্নু কোটারি রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছিলেন। সে কারণে এই দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেমন তার প্রতি ক্ষুব্ধ, তেমনি দলনিরপেক্ষ ভোটাররাও তাকে ভালো চোখে দেখছেন না। তাই চুন্নুবিরোধী শিবির একাট্টা হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন মোহাম্মদ মাহফুজুল হক হায়দার, এরপর রয়েছেন নাসিমুল হক, গোলাম কবীর ভূঁইয়া। এ ছাড়া এ আসনে এনপিপি প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট (আইওজে) প্রার্থী ওমর ফারুক এবং মো. রুবেল মিয়াও মাঠে রয়েছেন।
চুন্নুবিরোধী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ অন্য ভোটাররা বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধ না হতে পারায় এখন পর্যন্ত মুজিবুল হক চুন্নু ভালো অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বতন্ত্র তিন প্রার্থীর যেকোনো দুজন একজনকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে আসবেন। যদি বাস্তবিক এ রকম ঘটে, তাহলে এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী চুন্নুর পতন ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে বলে তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আজিজুল ইসলাম মোতাহার দাবি করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুল হক হায়দার বলেন, মুজিবুল হক চুন্নু মন্ত্রী-এমপি থাকা অবস্থায় তার বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে অনেক নির্যাতন করেছেন। উন্নয়নের নামে নিজের অনুগত লোকদের কাজ পাইয়ে দিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। যে কারণে ভোটাররা তার প্রতি ক্ষুব্ধ। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। বিগত করোনা মহামারি ও বন্যার সময় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে জনগণের সেবা করেছি। তাই চুন্নুবিরোধী নেতিবাচক ভোটগুলো অবশ্যই আমার অনুকূলে আসবে। আমরা স্বতন্ত্র তিন প্রার্থী এক হওয়ার চেষ্টা করছি। জয় আমাদের সুনিশ্চিত।
জেলা বিএমএ সভাপতি দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব ইকবাল বলেন, আসনটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই পরীক্ষিত ঘাঁটি বারবার ধার করা অন্য দলের প্রার্থীকে দিয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের পায়ে কুঠারাঘাতের শামিল। আওয়ামী লীগকর্মীরা এ কারণে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। তাই তারা পরিবর্তন চায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলে লাঙ্গলের ভরাডুবি সুনিশ্চিত।
নৌকার মনোনয়ন পেয়ে পরে প্রত্যাহার করেছেন করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ। তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু ভোটাররা চুন্নুকে ছেড়ে দেবেন কি নাÑ এ নিয়ে সংশয়ে আছি।