দিনাজপুর-৪
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৩:১৬ পিএম
বাঁয়ে আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ডানে তারিকুল ইসলাম তারিক। প্রবা ফটো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। তবে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে নির্বাচনী আমেজ উৎসবে পরিণত হয়নি। আসনটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ও একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়েছেন দুই ভাগে। বরাবরই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে এবার বিএনপি ভোটের লড়াইয়ে না আসায় আওয়ামী লীগের কৌশলগত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটের লড়াইয়ে ছাড় দিয়েছে দলটি। তাই নৌকার সঙ্গে এই আসনে লড়াইয়ে থাকবেন দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এতে দলের নেতাকর্মীরাও ভাগ হয়ে গেছেন দুই প্রার্থীর পক্ষে।
আসনটিতে মোট চারজন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়াই করবেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তারিকুল ইসলাম তারিক, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোনাজাত চৌধুরী মিলন ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আম প্রতীকের প্রার্থী আজিজা সুলতানা।
আলোচনায় থাকা নৌকা ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ নানাভাবে গণসংযোগ চালাতে দেখা গেলেও এই আসনে জাতীয় পার্টি ও এনপিপি প্রার্থীর কোনো তোড়জোড় নেই। এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত ১১ জনের মধ্যে চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন নিলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে লড়াই করছেন শুধু তারিকুল ইসলাম তারিক। মনোনয়নবঞ্চিত মো. মিজানুর রহমান মানু, ডা. এম আমজাদ হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম ও জ্যোতিষ চন্দ্র রায় বর্তমানে প্রকাশ্যে নৌকার কাজ করছেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে মো. আনোয়ার হোসেন নৌকার ভোট চেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অ্যাডভোকেট সামসুর রহমান পারভেজ প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট করছেন। বাকিদের ভোটের মাঠে কোনো উপস্থিতি নেই।
তবে মনোনয়নবঞ্চিত সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে বিভক্তি। তাদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। মনোনয়নবঞ্চিত মো. মিজানুর রহমান মানুর প্রধান কর্মী হিসেবে পরিচিত খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি আবু সায়েদ ও ডা. এম আমজাদ হোসেনের একনিষ্ঠ কর্মী জেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক সিকান্দার আলী কাবুলের হাজারো সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে এ আসনে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তারিকুল ইসলাম তারিকের সমর্থনে এই বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার পক্ষে খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী, সহসভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম, সদস্য মোস্তফা আহমেদ শাহ্ কাজ করছেন।
তারিকুল ইসলামের ট্রাকের পক্ষে উপজেলা সহসভাপতি রতন কুমার রত্ন ও আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা ও ধীমান দাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক সামসুর রহমান পারভেজ কাজ করছেন। নীরব ভূমিকায় দেখা গেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীনকে। তবে পদধারী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেকেই ওপরে ওপরে নৌকার নির্বাচন করলেও ভেতরে তারা কাজ করছেন ট্রাকের পক্ষে। পদ হারানোর ভয়ে তারা এই কাজ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকেই।
এদিকে ইতোমধ্যে গত মঙ্গলবার নৌকার প্রচারকে কেন্দ্র করে খানসামা উপজেলার ৫ নম্বর ভাবকী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-মৎস্যজীবী লীগের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাওয়ায় নৌকার নেতাকর্মীরাও বিব্রত।
এরই মধ্যে নৌকার বিরুদ্ধে যারা কাজ করছেন, তাদের বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী।
তাদের এ বক্তব্যের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, ‘ওরা ঠোসা ও কানা। তা না হলে বহিষ্কারের ঘোষণা কীভাবে দেন। তারা সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনেন নাই এবং দেখেন নাই। তা ছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদকের নিয়মিত ব্রিফিং দেখেন না। পক্ষান্তরে তারা দলীয় হাইকমান্ড মানছেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ নির্বাচন করার লক্ষ্যে যে কাজ করছেন, তারা সেটার বাধা সৃষ্টি করছেন। আমি আশা করছি, তাদের বিরুদ্ধেই দলীয় প্রধান ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মাঠ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যে যার মতো প্রার্থীর হয়ে কাজ করতে পারবে।’