লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০৮ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৮ পিএম
সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম মর্তুজা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-২ আসনে (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বক্তব্যের একটি ভিডিওচিত্র ভাইরাল হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) লালমিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের চামটারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন নুরুজ্জামান আহমেদ। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মর্তুজা হানিফকে সতর্ক করে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
মন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার দুদিন পর সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্ল্যার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গোলাম মর্তুজা। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘গোলাম মর্তুজা হানিফের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জেলা নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’
গোলাম মর্তুজার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী গ্রামে। বর্তমানে তিনি রংপুর শহরে থাকেন। তিনি রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
কী বলেছেন মন্ত্রী, কেন বলেছেন
শনিবার দেওয়া বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘সেদিন ভুল্ল্যাহাটের মিটিংয়ে গোলাম মর্তুজা হানিফ যে বাজে কথা বলেছে– তাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। এই ধরনের বাজে কথা যদি আর কোনো দিন বলো, তোমার ঘাড় মটকে দেব। তুমি এখনও লোক চিনো নাই। তোমার চরিত্রের নাই ঠিক। আমার মনে হয় যে, মানুষের কাজ সততা ও নিষ্ঠার সাথে করতে গিয়ে কিছুসংখ্যক লোক, স্বার্থান্বেষীমহল আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে নুরুজ্জামান আহমেদের ফোনে কল দিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) ও আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
কেন আরেক প্রার্থীর সমর্থককে নিয়ে এ বক্তব্য দিয়েছেন মন্ত্রী– জবাবে তার এপিএস মিজানুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গোলাম মর্তুজা হানিফ সাহেব রাজনৈতিক মঞ্চে মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। মন্ত্রী মহোদয়ও তার রাজনৈতিক ভাষায় জবাব দিয়েছেন। এটাকে হুমকি-ধমকি বলে না। রাজনৈতিক জবাব মন্ত্রী মহোদয় রাজনৈতিকভাবেই দিয়েছেন।’
মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার এক দিন আগে শুক্রবার স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল হকের পক্ষে ভুল্ল্যারহাটে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন গোলাম মর্তুজা হানিফ। সেখানে তিনি মন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে গোলাম মর্তুজা কী বলেছিলেন– এ-সংক্রান্ত কোনো ভিডিওচিত্র/অডিও সোমবার সন্ধ্যা (৭টা) পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগে গোলাম মর্তুজা দাবি করেছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় দেওয়া বক্তব্যে আপত্তিকর বা কুৎসা রটানোর উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলেননি। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নিজে না শুনলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন গোলাম মর্তুজা।
তিনি উল্লেখ করেছেন, লালমনিরহাট-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে– সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি আমার ও আমার পরিবারের জন্য নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে। আমি ও আমার সম্পদের ওপর হামলার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্তাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দুই পক্ষের জবাব
সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে নিয়ে কী বলেছিলেন– জানতে চাইলে গোলাম মর্তুজা হানিফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শুক্রবার ভুল্ল্যারহাটে সিরাজুল হকের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়েছিলাম। জনসভায় বলেছি, মন্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা পাই। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। সে সময় আমার কাছে টাকাটা ধার নিয়েছিল। এখনও পরিশোধ করেননি। কিন্তু মন্ত্রী আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলেছেন। তার চরিত্রের ব্যাপারে আমারও জানা আছে।’
গোলাম মর্তুজার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এপিএস ও আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনও যোগ দিয়েছে। তারাই নানা সময় রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সব ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার মোকাবিলা করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে দেবে না।’