রহিম শুভ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৪ পিএম
সওদাগর বর্মণ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলার হাট ইউনিয়নের খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় মুদি দোকানদার। প্রতিদিন তার মুদি দোকানে বিভিন্ন খদ্দেরের আনাগোনায় তাদের চাহিদামতো কোমল পানীয় বিক্রি করতেন। ক্রেতারা তৃপ্তিসহকারে পানীয় পান করে খালি প্লাস্টিকের বোতলগুলো দোকানের আশপাশ যত্রতত্র ফেলে দিতেন। খদ্দেরের ফেলে দেওয়া খালি বোতলগুলো দিনশেষে একত্র করে বাসায় নিয়ে আসেন বর্মণ। বাসায় জমানো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বোতলগুলোর বিকল্প ব্যবহারের চিন্তায় নতুন মাত্রা জোগায় ইউটিউব।
ইউটিউব দেখে বর্মণ জানতে পারেন পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ইকো-হাউস নামে পরিবেশবান্ধব বাড়ি তৈরি করছেন জাপানিরা। তাদের এ কাজে উৎসাহিত হয়ে দেশ-বিদেশের অনেকেই প্লাস্টিকের বাড়ি বানিয়েছেন। এতে উৎসাহিত হয়ে সওদাগর বর্মণ সিদ্ধান্ত নেন নিজেও প্লাস্টিকের বাড়ি নির্মাণের। রপ্ত করতে থাকেন বাড়ি তৈরির কলাকৌশল।
গত এক বছরে জমাকৃত পরিবেশ দূষণকারী কয়েক হাজার প্লাস্টিকের বোতলে বালু ভর্তি করে সিমেন্ট দিয়ে তিনি তৈরি করছেন পরিবেশবান্ধব বাড়ি। এখন এলাকায় তার বাড়িটি পরিচিতি পেয়েছে বোতল বাড়ি নামে। প্রতিদিনই আশপাশের গ্রাম থেকে অনেকে দেখতে আসেন সওদাগর বর্মণের বোতল বাড়িটি।
সদর রুহিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রভাষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আগে ফেসবুক অথবা ইউটিউবে বোতল বাড়ি দেখলেও আজ নিজ জেলায় দেখলাম। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ দিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং কম খরচে এভাবে বাড়ি করা যে সম্ভব- না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আমার ইচ্ছা এমন একটা বাড়ি বানানো।
সওদাগরের স্ত্রী কুমিলা রানী বলেন, ‘হামার স্বামী যখন এ বাড়িটা তৈরি করিবা ধরিছে হামরা সবাই অবাক হয়ে গেছিনো। এ্যালা দেখতে অনেক ভালো লাগছে। খরচ অনেক কম হছে। আশেপাশেরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন দেখিবা আসেছে হামার বাড়িটা।’
সওদাগর বর্মণ বলেন, আমি ১৫ দিন আগে বাড়ির কাজ শুরু করেছি। বাড়ির কাজ শেষ করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। পরিবেশবান্ধব, তাপ শোষক, অগ্নিনিরোধক, ভূমিকম্পসহনীয় বাড়িটি নির্মাণে ইটের তৈরি বাড়ি থেকে ৪০ শতাংশ কম ব্যয় হবে। আপাতত আমি একটি রুম তৈরি করছি, পরে বাড়ির আরেকটি রুম করব। নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে আমি এবং পরিবারের সদস্যরা বোতলের মধ্যে বালুভর্তি করি। এতে নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
ঢোলার হাট ইউপি চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র রায় বলেন, সওদাগর বর্মণের বোতল বাড়িটি আমি নিজে দেখে তো অবাক। আগে এমন বাড়ি ইউটিউবে দেখতাম। এখন নিজ ইউনিয়নে হচ্ছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বস্তু দিয়ে কম খরচে পরিবেশবান্ধব এই বাড়িটির নির্মাণকাজ ভালোভাবে শেষ হয়- এই কামনা করি।