বাগেরহাট- ৩
আবুল হাসান, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:০২ এএম
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:০৩ এএম
প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার। অপরদিকে মনোনয়ন না পেয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ইজারদার। প্রবা ফটো
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ বিভন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন। টানা চারবারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার। অপরদিকে মনোনয়ন না পেয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ইজারদার।
বাকি প্রার্থীরা হলেনÑ জাতীয় পার্টির মনিরুজ্জামান মনি, তৃণমূল বিএনপির ম্যানুয়েল সরকার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের শেখ নুরুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মফিজুল ইসলাম গাজী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) সুব্রত মন্ডল।
সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকা ও ঈগল প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা চলছে বেশ জোরশোরে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা, সমাবেশ, উঠোন বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাচ্ছেন তারা। কিন্তু বাকি পাঁচ প্রার্থীর পক্ষে নেই কোনো কার্যক্রম। এমনকি তাদেরকে চেনেন না আসনটির বেশিরভাগ মানুষ।
এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমপি নামের তকমা লাগাতেই তারা ভোটে দাঁড়িয়েছেন। যাতে ভোটে হারলেও মানুষ যেন চিনতে পারে। মোংলা পৌর শহরের মামার ঘাটের চা দোকানি মো. জামাল হেসেন বলেন, সারাদিন নৌকা আর ঈগলের মাইক বাজে। আর কোনো প্রার্থীর পোস্টারও দেখিনি।
মিঠাখালী গ্রামের এক নারী ভোটার সাদিয়া বেগম বলেন, নৌকা প্রতীকের লোকজন এসে ভোট চেয়ে গেল, ঈগলের লোক ভোট চায়। আর কোনো প্রার্থী এখনও আসেনি। শুনেছি এখানে অনেক প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন, তাদেরকে এখন পর্যন্ত চোখে দেখিনি।
মোংলা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিদ্দিকী বলেন, নতুন কিছু রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হলে সেই দল থেকে অনেকে নতুন প্রার্থী হয়েছেন। তারা স্বল্পসময়ে মাঠ গোছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোদিন অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হননি। তাই তাদেরকে অধিকাংশ মানুষই চেনে না। এ কারণেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটারদের ভালোবাসা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মোংলার সাধারণ সম্পাদক মো. নুর আলম শেখ বলেন, ‘বাংলাদেশে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ ক্ষেত্রে কথিত কিংস পার্টির বিভিন্ন দল থেকে অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। ওইসব দলের ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে হবেÑ তাই দিয়েছে। কিন্তু যাদেরকে প্রার্থী করা হয়েছে তাদের কোনো পরিচিতি নাই, তাদেরকে কেউ চেনে না বা তাদের সম্পর্কে কেউ জানে না। তারা অচেনা, অজানা।
এ বিষয়ে তৃণমূল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ম্যানুয়েল সরকার জানান, তার বাড়ি মোংলার চিলা এলাকায় হলেও তিনি ঢাকায় রাজনীতি ও ব্যবসা করেন। দল থেকে তাকে বাগেরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই প্রার্থী হয়েছেন। স্বল্প পরিসরে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। খৃষ্টধর্মের ৬০ শতাংশ এবং বিএনপির অধিকাংশ ভোট পেয়ে তিনি জয়ী হবেন বলেও ধারণা তার। এ ছাড়া বাকি চার প্রার্থীর বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মোংলা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) সাধারণ ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২৭ হাজার ১৭৭ এবং এক লাখ ২৭ হাজার ৭১৮ জন নারী ভোটার। এবারের সংসদ নির্বাচনে এই আসনে সাতজন প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।