ফেনী-৩ আসন
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:২১ পিএম
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:৫৯ পিএম
(ওপরে বাঁ থেকে) ইশতিয়াক আহম্মেদ সৈকত, আবুল বাশার, হাজি রহিম উল্যাহ ও পারভীন আক্তার। ছবি : সংগৃহীত
ভোটযুদ্ধে একসঙ্গে মাঠে নামার কথা ছিল বাবা-ছেলে ও স্বামী-স্ত্রীর। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েন ছেলে ও স্ত্রী। পরে ছেলে হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পান। কিন্তু তখন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন বাবা। আলোচিত ঘটনাটি ফেনী-৩ আসনের।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে দুজন সম্পর্কে বাবা-ছেলে। আর দুজন স্বামী-স্ত্রী। একই আসনে বাবা-ছেলে ও স্বামী-স্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় বেশ আলোচনা চলছিল নির্বাচনী এলাকাজুড়ে। কিন্তু না সেটি বেশি দূর এগোয়নি।
জানা গেছে, ফেনী-৩ আসনে যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। বাবার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশতিয়াক আহম্মেদ সৈকত।
অন্যদিকে সৌদি আরবের জেদ্দা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজি রহিম উল্যাহ ও তার স্ত্রী জেদ্দা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি পারভীন আক্তারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইশতিয়াক আহম্মেদ সৈকত ও পারভীন আক্তার বাদ পড়েন। অন্য অনেকের মতো তারাও এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর দেখাতে ব্যর্থ হন।
পরে ইশতিয়াক আহম্মেদ সৈকত হাইকোর্ট থেকে প্রার্থিতা ফিরে পান। পারভীন আক্তারের কপালে তা জুটেনি।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আসন সমঝোতায় ফেনী-৩ মহাজোটকে ছেড়ে দেওয়ায় নৌকার প্রার্থী আবুল বাশার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এতে করে চতুর্থবার সংসদে যাওয়ার বাসনা মাটিতে মিশে যায় সাবেক যুবলীগ নেতা আবুল বাশারের।
আবুল বাশার বাদ পড়লেও তার ছেলে ইশতিয়াক আহম্মেদ সৈকত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকছেন।
অন্যদিকে পারভীন আক্তার না থাকলেও নির্বাচনী মাঠে থাকছেন তার স্বামী হাজি রহিম উল্যাহ।
মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আবুল বাশারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে আসন্ন নির্বাচনকে আরেকটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন সাবেক সংসদ সদস্য হাজি রহিম উল্যাহ। তিনি বলেন, ’দলে নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার পথে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা আরেকবার প্রমাণ করতে চাই। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভোটাররা আমাকে আবারও নির্বাচিত করবেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাব।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানান তিনি।
ফেনী-৩ আসনের প্রতীকপ্রাপ্তরা হলেন জাতীয় পার্টির লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (লাঙ্গল), হাজি রহিম উল্যাহ (ঈগল), তৃণমূল বিএনপির আজিম উদ্দিন আহমেদ (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির তবারক হোসেন (একতারা), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাসের (চেয়ার), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নিজাম উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের জোবায়ের ইবনে সুফিয়ান (ছড়ি), আনোয়ারুল কবির রিন্টু আনোয়ার (বাঁশি), আবুল কাশেম আজাদ (ট্রাক), ইঞ্জিনিয়ার ইশতিয়াক আহম্মেদ সৈকত (কাঁচি)।