× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কক্সবাজার-৩ ও ৪

ঈগল ফেরায় বদলে গেছে সমীকরণ

নুপা আলম, কক্সবাজার

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৮:৩৮ এএম

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৪১ এএম

ঈগল ফেরায় বদলে গেছে সমীকরণ

আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মিজান কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) এবং নুরুল বশর কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে নির্ধিারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে মিজানের মনোনয়নপত্র জমাই নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে তথ্যগত গরমিলের কারণে বাতিল করা হয় নুরুল বশরের মনোনয়ন। এর ফলে তাদের প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে সেই সংশয় ঘুচেছে। ভোটের মাঠে হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বদলে গেছে এই দুই আসনের ভোটের সমীকরণ। 

ব্যারিস্টার মিজান ও নুরুল বশর জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তারা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার তাদের দুজনকে প্রতীকও বরাদ্দ করেছেন। দুজনই পেয়েছেন ঈগল প্রতীক। নির্বাচন কমিশন থেকে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই দুই প্রার্থী। 

তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ গত ৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে যখন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছান তখন বিকাল ৫টা পেরিয়ে যায়। ওই আসনের বর্তমান এমপি এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন মিজানের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যান মিজান এবং আদালত মনোনয়নপত্র দাখিলের আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় অতিবাহিত হওয়ার ১১ দিন পর ১২ ডিসেম্বর সাঈদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইকালে সমর্থনকারী ভোটারদের ১ শতাংশ স্বাক্ষরে গরমিল ও সংশ্লিষ্ট ভোটার স্বাক্ষর প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করায় মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন। এরপর মিজান সাঈদ আবারও আদালতে যান। পরে গতকাল এক আদেশে প্রতীক বরাদ্দ পান তিনি।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন তাতে ভোটারদের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় সেটি বাতিল করা হয়। পরে তিনিও উচ্চ আদালতের আদেশে প্রতীক বরাদ্দ পান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তিনি মিজান সাঈদের প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশনার কপি হাতে পেয়েছেন। তবে নুরুল বশরের কাগজপত্র এখনও হাতে পাননি। 

এই দুই প্রার্থী ফেরায় কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এখন ২৬ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার-১ ও ৪ আসনে প্রার্থী ৭ জন করে এবং কক্সবাজার-২ ও ৩ আসনে আছেন ছয়জন করে। 

কক্সবাজার-৩ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল। কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুনের সঙ্গে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু মিজান সাঈদ প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। কারণ মিজান দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে শক্ত অবস্থান গড়েছেন। এ ছাড়া কমলকে ঘিরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তররীণ দ্বন্দ্বের কারণেও মিজান সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

অন্যদিকে কক্সবাজার-৪ আসনে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি শাহীন আক্তার। তিনি এই আসনের সাবেক এমপি আলোচিত-সমালোচিত আবদুর রহমান বদির স্ত্রী। আরও বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থী থাকলেও ভোটের মাঠে শাহীনকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। কিন্তু নুরুল বশর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় সেই চিত্র বদলে গেছে। কারণ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের এই নেতার রয়েছে নিজস্ব কর্মী বাহিনী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার আগে সাধারণ সম্পাদক এবং এরও আগে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা নুরুল বশরের স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। গত ১৫ বছরে বদি ও তার পরিবারের কাছে অবমূল্যায়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নুরুল বশরের পক্ষে মাঠে নামলে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন শাহীন। 

অন্য দুটি আসনের মধ্যে কক্সবাজার-১ আসনে (চকরিয়া-পেকুয়া) আওয়ামী লীগের প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের সময় ছিটকে পড়েছেন মাঠ থেকে। এ আসনের বর্তমান এমপি জাফর আলমকে বাদ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপিকে নৌকা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সালাহউদ্দিনের। এমপি জাফর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের। 

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক (নৌকা) অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে। ওই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ ইউনুস (মিনার), বিএনএমের শরীফ বাদশাহ (নোঙ্গর), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান (চেয়ার), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মোহাম্মদ খায়রুল আমীন (একতারা), বাংলাদেশ ন্যাশালিস্ট পার্টির (এনপিপি) মাহবুবুল আলম (আম)।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা