× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাহাড় কেটে বন উজাড় করার অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৪ পিএম

পাহাড় কেটে বন উজাড় করার অভিযোগ

বান্দরবানে অবৈধভাবে গাছ কেটে প্রাকৃতিক বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী দুই কাঠ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুজন হলেনÑ আবদুর রহিম কোম্পানি ও আব্দুর শুক্কুর। ব্যক্তিমালিকাধীন বাগানের গাছ কাটা হচ্ছে বলা হলেও, স্থানীয়দের ভাষ্য প্রাকৃতিক বনের গাছই কাটা হচ্ছে। 

বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৩১২ নম্বর টাকের পানছড়ি মৌজার চিনিপাড়ার খেদার ঝিরি এলাকায় এসব গাছ কাটা হচ্ছে। 

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চিনিপাড়া এলাকার খেদার ঝিরির আট থেকে দশটি স্থানে স্বাভাবিক পানির স্রোত বন্ধ করে এক্সকাভেটর দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার গাড়ি চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে রাস্তা দেখলে মনে হবে কোন দুর্গম এলাকার যাতায়াত সুবিধার জন্য কোনো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প! শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বনাঞ্চলের গাছ পাচার ও ঝিরির পাথর উত্তোলনের জন্যই এই রাস্তা তৈরি হয়েছে। ঝিরির আশপাশে বনের গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা। কয়েকটি স্তূপে দুশরও বেশি গাছ। গাছগুলো লম্বায় ৫ থেকে ৬ ফুট, আবার কোনো কোনো গাছ ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা। যার মধ্যে রয়েছে কড়ই, চাপালিশ, গামারি, সেগুন ও বনজ প্রজাতির বিভিন্ন গাছ।

পাড়াবাসী ও মৌজা হেডম্যান ঙানওয়াই ম্রো জানান, এই স্থান থেকে থেকে ট্রাকে করে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, আমিরাবাদ নিয়ে যাওয়া হয় এসব গাছ। গাড়ি চলাচলের জন্য ঝিরির স্বাভাবিক পানির স্রোত বন্ধ করে পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে গাড়ি চলাচলের রাস্তা।

কথা হয় গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও ট্রাকচালক ইউসুফের সঙ্গে। তিনি জানান, খেদার ঝিরি এলাকা থেকে শ্রমিকদের সাহায্যে গাড়ি ভরে গাছ নিয়ে যান চট্টগ্রামের আমিরাবাদ, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায়।

দৈনিক ৬০০ টাকার বিনিময়ে গাছ কাটার কাজ করেন শহীদ নামে এক শ্রমিক। শহীদ জানান, তার সঙ্গে কক্সবাজারের রামু থেকে ১৩ জনের একটি দল গত ১২ দিন ধরে আব্দুর শুক্কুর ও আব্দুর রহিম কোম্পানির অধীনে গাছ কাটার কাজ করছেন।

টংকাবতী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য য়ংওয়াই ম্রো জানান, খেদার ঝিরি এলাকায় গাছ কাটার বিষয়ে অবগত আছেন। তবে সেটা প্রাকৃতিক বনের গাছ নাকি ব্যক্তি মালিকানা বাগানের, এটা তার জানা নেই। 

কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম কোম্পানি দাবি করেছেন ‘জোত-পারমিটের’ মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান কেনা হয়েছে এবং বৈধভাবেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। এক্সকাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অপ্রাসঙ্গিক নানান কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন চৌধুরীর কাছে ঝিরির স্রোতের গতি বাধাগ্রস্ত করে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই এলাকায় দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে। 

এ বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, গাছ কাটা প্রসঙ্গে আমি জানি না কিছু। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। প্রাকৃতিক বনের গাছ হোক বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানের গাছ হোক, গাছ কাটার ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি গাছ কাটতে পারে না। এ ব্যাপারে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা