লক্ষ্মীপুর-৪
আমানত উল্যাহ, কমলনগর(লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:১৬ পিএম
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:২৩ পিএম
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন। কিন্তু তার জয়ের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ইস্কান্দার মির্জা শামীমকে।
ঈগল ও ট্রাক প্রতীক পাওয়া এই দুইজনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
এই আসন থেকে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত ফরিদুন্নাহার লাইলী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তিন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে বাতিল হলে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে। এদের মধ্যে ১৪ দলের প্রার্থী মোশারফ হোসেন নৌকা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ সোলায়মান একতারা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন ঈগল, ইস্কান্দার মির্জা শামীম ট্রাক ও মাহমুদা আক্তার তবলা প্রতীক পান।
নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করলেও বৃহত্তর রামগতিতে মোশারফ হোসেনের রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। স্থানীয়ভাবেও রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। তবু তার জয়ের পথে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের দুই নেতা আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ইস্কান্দার মির্জা শামীম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এদিকে দলীয় প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন হিসাবনিকাশ শুরু হয়। পাল্টে যায় ভোটের চিত্র। সাধারণ ভোটাররাও ভাবছেন নতুন করে।
রামগতি-কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ নেতারা নৌকা ছেড়ে কেউ ট্রাক, কেউবা ঈগল পাখি প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। ফলে ভোটের প্রচারণার শুরুতেই কর্মী ও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছেন নৌকার প্রার্থী মোশারফ হোসেন। এখন পর্যন্ত রামগতি-কমলনগরের অধিকাংশ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে নৌকা মার্কার পোস্টার দেখা যায়নি। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাইকিংও শোনা যাচ্ছে না।
দলটির রামগতি উপজেলা সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ মুরাদ ও সহসভাপতি ড. আশ্রাফ আলী চৌধুরী সারুর নেতৃত্ব বিশাল একটি অংশ আব্দুল্লাহ আল মামুনের ঈগল পাখি প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। আরেক প্রার্থী ইস্কান্দার মির্জা শামিমের ট্রাকে উঠেছেন কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশ্রাফ উদ্দিন রাজু।
বাকিরা নৌকার পক্ষে সক্রিয়তা দেখালেও গোপনে তারাও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা। এতে জাসদ ও আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী পরিবর্তন দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। নিবেদিত কর্মী হিসেবে সব সময় দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। দল যাকে নৌকা দিয়েছে তাকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলেই মনে করি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ মুরাদ বলেন, ‘আমাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তার জন্য দলের নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করবে। আমরা কারও পক্ষে ভাড়া খাটতে রাজি নই। দলের প্রয়োজনেই আমাদের নিজেদের এমপি দরকার।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইস্কান্দার মির্জা শামীম বলেন, ‘নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তাই আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছেন। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল মনোনয়ন দেয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী মাঠ উন্মুক্ত ঘোষণার কারণেই প্রার্থী হয়েছি। সাধারণ মানুষের দারুণ সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি এখানকার সাবেক সংসদ সদস্য। এমপি থাকাকালীন জনগণের জন্য কাজ করেছি। নিজের স্বার্থে কিছু করিনি; অন্যায়কে প্রশ্রয় দিইনি। ১৪ দলীয় জোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করছি। আওয়ামী লীগের একাংশ আমাকে সহযোগিতা করছে। জয়লাভের মাধ্যমে রামগতি ও কমলনগরে মেঘনার ভাঙনরোধসহ উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই।’