মৌলভীবাজার-২
ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:৩০ এএম
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:৪০ এএম
আব্দুল মতিন (বামে), সফি আহমেদ সলমান (মাঝে) ও শফিউল আলম চৌধুরী (ডানে)। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে আওয়ামী লীগ থেকেই শক্তিশালী দুই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকায় বিপাকে পড়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী। এ ছাড়া আসনটি সাবেক সংসদ সদস্য এমএম শাহীন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা।
নৌকাকে অস্বস্তিতে ফেলা দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেনÑ সাবেক সংসদ সদস্য ও কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মতিন এবং সদ্য কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভপতি একেএম সফি আহমেদ সলমান। স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তাদের দুজনেরই রয়েছে নিজস্ব কর্মী ও সমর্থকগোষ্ঠী। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভোটের লড়াই জমিয়ে দিয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এবার তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী এমএম শাহীনও। আসনটি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্য স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী ও জনপ্রিয়। ফলে নতুন দলে প্রার্থী হলেও ব্যক্তি ইমেজের কারণে বড় একটি অংশের ভোট টানতে সক্ষম হবেন তিনি।
জানতে চাইলে শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ ২১ বছর কুলাউড়ায় আওয়ামী পরিবারের কোনো প্রার্থী ছিল না। মহাজোটের শরিক দলগুলোকে আমরা সমর্থন করতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ৭ জানুয়ারি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কুলাউড়াবাসী নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন, ‘আমি এই জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখে অংশীদার ছিলাম। আমি এই জনপদে জন্মগ্রহণ করে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই পর্যন্ত এসেছি। অতীতে অনেকেই এ আসন থেকে এমপি হয়েছেন, কিন্তু এ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমি করোনাকালীন সময়ে এবং ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় মানুষের পাশে ছিলাম। আর কাউকে তখন দেখা যায়নি। কুলাউড়ার সর্বস্তরের মানুষ আমাকে অন্তর থেকে ভালোবাসে। এই জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখে তাদের আপন মানুষ হিসেবে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, এটি আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’
আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। সে নির্বাচনে মহাজোটের সমঝোতার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় জনগণের চাপে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। প্রত্যাশা করছি ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও জনগণ অতীতের মতো আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’
এমএম শাহীন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এই কুলাউড়ায় এমএম শাহীন একটি সাইনবোর্ড। অতীতেও আমি একাধিকবার কুলাউড়ার মানুষের সর্বাত্মক সমর্থন ও ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি প্রবাস জীবন ছেড়ে কুলাউড়ার মাটি ও মানুষের কল্যাণে দীর্ঘ ৩০ বছর নিয়োজিত আছি। আমি সবাইকে আমার পক্ষে থাকার এবং সোনালী আঁশ প্রতীকে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।’
আসনটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১০ প্রার্থী। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১০ জনকেই বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. বদরুল হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় মো. মাহবুবুল আলমের মনোনয়ন বাতিল হয়। শক্তিশালী এই চার প্রতিদ্বন্দ্বীর বাইরে বাকি চার প্রার্থী ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত মুখ না হওয়ায় তারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অনেকটা দূরে। তারা হলেনÑ ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আছলাম হোসাইন রহমানী, বিকল্পধারা বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান সিমু; বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক মাহতাব এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল)।
১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৫, আর নারী ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৭।