× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্ভার ৩ প্রার্থী, অন্য ৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:২২ এএম

রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক (বামে), মুজিবুল হক চুন্নু (মাঝে), ও নাজমুল হাসান পাপন (ডানে)। প্রবা ফটো

রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক (বামে), মুজিবুল হক চুন্নু (মাঝে), ও নাজমুল হাসান পাপন (ডানে)। প্রবা ফটো

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের মোট ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী অনেকটা নির্ভার। কারণ এসব আসনের দুইটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই, আর একটিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও ভোটের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে থাকার মতো জনপ্রিয়তা নেই তার। 

সে হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের বড় ছেলে রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিকের নৌকার প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা। যদিও এ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস দলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মো. শরীফুল আহসান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. নাছিম খান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আবু ওয়াহাব রয়েছেন। কিন্তু ভোটারদের মধ্যে তাদের সুদৃঢ় অবস্থান নেই। 

তা ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাতবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথম উপনির্বাচনে তার ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি হন। পরে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তৌফিক এমপি নির্বাচিত হন। এলাকায় বেশি সময় থাকেন বলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তৃণমূলের লোকজনের মধ্যে তার ভালো ইমেজ রয়েছে। তাই ভোটের মাঠে তার সমকক্ষ প্রার্থী না থাকায় তিনিই বিজয়ী হবেন ধারণা সবার। 

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে (কুলিয়ারচর-ভৈরব) আসনে আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ছেলে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এই আসনে তাকে টেক্কা দেওয়ার মতো অবস্থান শুধু জেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শরীফুল আলমেরই রয়েছে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে না আসায় এখন পাপনের আসনটিতে কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এই আসনে প্রার্থী বলতে জাতীয় পার্টির নূরুল কাদের সোহেল, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. রুবেল হোসেন, এনপিপির তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. আইয়ূব হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুছ সাত্তার খোকন। তবে তারা নামমাত্র প্রার্থী বলে মনে করেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনীতিকরা। 

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) এ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জাপার প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নুর জন্য কেন্দ্রের সমঝোতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এবার নিয়ে তিনি চারবার সমঝোতার কারণে এভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন। এ আসনটি আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ঘাঁটি হলেও বল বরাবরই জাপার কোর্টে থাকছে। নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা মো. নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ বলেন, ‘এখানে নৌকার প্রার্থী থাকলে মুজিবুল হক চুন্নুর জামানত থাকবে না।’ 

তবে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে গত তিনবার নির্বাচিত হয়ে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করায় চুন্নু ভোটে এগিয়ে যাবেন বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন। এ আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ব্যারিস্টার মো. গোলাম কবীর ভূঁইয়া, মো. মাহফুজুল হায়দার, মেজর (অব.) নাসিমুল হক ও মো. রুবেল মিয়া। এ ছাড়া এনপিপির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ওমর ফারুক ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে তারা কেউ-ই ভোটের মাঠে চুন্নুর কাছাকাছিও না। 

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের বাকি তিনটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে আব্দুল কাহার আকন্দ ও কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মো. আফজাল হোসেনের সামনে নিজ দলেরই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এসব আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত এবং ভোটারদের কাছে সুপরিচিত। 

ষাটের দশকের ছাত্রনেতা বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন ফারুকী বলেন, জেলার ছয়টি আসনে দুইটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটি আসনে জাপার প্রার্থী জয়লাভ করবে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ১, ২ ও ৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিপরীতে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি অংশ নৌকার স্রোতের বিপরীতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবে। ফলে সহানুভূতি ভোট পুরোটাই আওয়ামী লীগেরÑ এ কথা এবার বলা যাচ্ছে না।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা